ঋণ আদান-প্রদানে সতর্কতা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৮ এএম

অভাবগ্রস্ত মানুষকে ঋণ প্রদান করা অনেক সওয়াবের কাজ। তাদের ঋণ দেওয়া এবং তাদের অভাব পূরণ করার কথা হাদিসে এসেছে। হাদিসে এর অনেক ফজিলতও বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দুবার ঋণ দিলে এ ঋণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য।’ (ইবনে মাজাহ : ২৪৩০)

অপর হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে। তবে যদি অতিরিক্ত দেওয়ার শর্ত করা হয়, তাহলে তা সুদ এবং হারাম বলে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি : ২৬০৬)

ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না। তার সাহায্য ত্যাগ করে না। যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে থাকেন। আর যে কোনো মুসলমানের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার কিয়ামতের দিনের বিপদগুলো থেকে একটি বিপদ দূর করবেন। (সহিহ বুখারি : ২৪৪২)

বর্ণিত হাদিসে ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত একাধিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। এখানে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক দাবি এই উল্লেখ করা হয়েছে, সে তার ভাইয়ের সাহায্য ত্যাগ করে না। বিপদে পড়ে ঋণ প্রার্থনা করা ব্যক্তিকে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এবং উপযুক্ত মনে হওয়া সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেওয়া তার সাহায্য ত্যাগ করা নয় কি? এদিক থেকে বিবেচনা করলে ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব খুবই স্পষ্ট।

ইসলাম শুধু ঋণ প্রদানে উৎসাহ দেয় না; বরং ঋণগ্রহণেও সতর্ক থাকার কথা বলে। ইসলামের পরামর্শ হলো, ঋণগ্রহীতা সময়মতো পরিশোধের প্রবল ধারণার ভিত্তিতে ঋণ নেবে এবং এর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। হাদিসে এসেছে, ‘যে মানুষের সম্পদ পরিশোধের নিয়তে (ঋণ) নেয়, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করে দেন। আর যে আত্মসাতের উদ্দেশে নেয়, আল্লাহ তা ধ্বংস করে দেন। (সহিহ বুখারি : ২৩৮৭)

হাদিসে এসেছে, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ মুসলিম : ১৮৮৬) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মাইয়্যেত উপস্থিত করা হলে জিজ্ঞাসা করতেন তার ঋণ আছে কি না, থাকলে পরিশোধের মতো কিছু রেখে গিয়েছে কি না। রেখে না গেলে তিনি জানাজা নামাজ পড়তেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত