ব্রিটেনের ভোটের রাজনীতিতে একটি ফ্যাক্টর হচ্ছে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভোট৷ এখানে অন্তত ১৬ লাখ বাংলাদেশি মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে সম্প্রতি কেয়ার ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটে আরো অন্তত কয়েক হাজার বাংলাদেশি ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছেন। তাই আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে এসব বাংলাদেশিদের ভোট কোনদিকে বা কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
তবে সদ্য ব্রিটেনে পাড়ি জমানো অনেক বাংলাদেশিরই নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। আবার সদ্য আসা অনেকে জানেনই না ব্রিটেনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য এখানকার নাগরিক হতে হয় না। কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিক হলেই অনলাইনে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিয়েই ভোটের রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব।
সদ্য ব্রিটেনে পাড়ি জমানো অন্তত অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবারের নির্বাচনে লেবার পার্টিকেই এগিয়ে রাখবেন। তারা বলেন, একটি দল যখন টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকে তখন পরিবর্তনের প্রত্যাশা অনিবার্য হয়ে দেখা দেয়। এছাড়া নির্বাচনে ইমিগ্রান্টদের নিয়ে কনজার্ভেটিভ পার্টি বা লেবার পার্টির বেনিফিট বা অন্যান্য পলিসির মধ্যে তেমন কোন পরিবর্তন নেই। অনেকটাই হুবুহু। তাই পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা লেবার পার্টিকেই বেছে নিয়েছি।
অন্যদিকে সম্প্রতি লেভার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার অবৈধ অভিবাসী প্রসঙ্গে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদাহরণ দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন। ফলে সদ্য ব্রিটেনে আসা অনেক বাংলাদেশি স্টারমারের সমালোচনা করে বলছেন লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশিদের পক্ষে ভালো হবে না। তিনি যেভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে নির্বাচনের আগে সরাসরি আক্রমণ করেছেন তাতে অনুমান করাই যায় তিনি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য শুভ কিছু হবে না।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সদ্য যুক্তরাজ্য পাড়ি জমানো এসব বাংলাদেশিরা ভোটের ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন প্রার্থীদের। তাই নতুনদের ভোট পেতে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতা স্যার স্টারমার নিজ দল ও বাংলাদেশি কমিউনিটির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার এ বক্তব্যে বিপাকে পড়েছে লেবার পার্টির মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা। তবে স্টারমার তার সেই বক্তব্যের পর চাপের মুখে কয়েক দফায় ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন এবং তার দলের পক্ষ থেকে এ নিয়ে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী বাস করেন পূর্ব লন্ডনে। বাঙালি অধ্যুষিত এই এলাকায় দুটি আসন— ‘বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো’ এবং ‘পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ’। এই দুই আসনে এখন প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই নারী রুশনারা আলী ও আফসানা বেগম। দুজনেই লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে স্যার স্টারমারের বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য প্রার্থীরাও জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন সেখানে। তারা সদ্য ব্রিটেনে আসা বাংলাদেশি ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রথম ও একমাত্র ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেজলিং ডন এর প্রকাশক মুনজের আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্রিটেনে আসা বাংলাদেশিরা যত দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিতে সক্রিয় হবার চেষ্টা করবেন, তার ইতিবাচক ফলাফল পাবে পুরো কমিউনিটি। ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ব্রিটেনের রাজনীতির গতি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিদের তুলনায় ভারতীয় এমনকি নতুন আসা পাকিস্তানি, শ্রীলংকানরাও অনেক এগিয়ে। আর আমরা ব্যস্ত বিদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে।
নিউ হাম এলাকার কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান বলেন, যুক্তরাজ্য একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যে যার পছন্দ মত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তবে সদ্য দেশ থেকে একটি বড় সংখ্যা ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের ভোট একটি ফ্যাক্টর। তবে এটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় কার্যকরী হবে। এই সংখ্যাটা যেদিকে মুভ করবে সেদিকে জয়ের পাল্লা ভারী হবে বলে ধারণা করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে স্যার স্টারমারের বক্তব্য ঘিরে যে আলোচনা চলছে এটা শুধুমাত্র রাজনৈতিক। অন্যান্য দল রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য তার বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করছেন। তিনি অবৈধ অভিবাসী নিয়ে উদাহরণ টানতে গিয়ে বাংলাদেশের নাম বলে ফেলেছেন, তার মানে এটা নয় তিনি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের সব মানুষকে দেশে পাঠিয়ে দিবেন।
৬৭ বছরের বৃদ্ধ সেজে যুবকের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা, অতঃপর ...
বেনজীর-মতিউর পরিবারের সম্পদ বিবরণী চেয়ে দুদকের নোটিস