বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে ৯৩ শতাংশ কাজ। আমদানি করা কয়লায় চলছে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। ব্যাকফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরেই আসবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে। আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির পরিবেশবান্ধব পটুয়াখালী ১৩২০ মেঘাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে এলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি লোডশেডিং নিরসনে রাখবে বড় ভূমিকা। এমন প্রত্যাশায় উৎপাদন সময়সীমাকে সামনে দিনরাত সমানতালে এগিয়ে চলছে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ।
২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরএনপিএল) যৌথ বিনিয়োগে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে। গঠন করা হয় আরএনপিএল নামে একটি যৌথ কোম্পানি। জেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির ওপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৪ হাজার দেশি ও দেড় হাজার চাইনিজ শ্রমিকের পরিশ্রমে ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোলস্টোর, স্টিল স্ট্রাকচার, বয়লার ও জেনারেটর বসানোর কাজ। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দ্রের নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালনসহ আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে।
রামনাবাদ নদীর কোল ঘেঁষে পায়রা সমুদ্রবন্দর ও পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশেই নির্মীয়মাণ পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লায় চলবে। ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন প্রয়োজন ১২ হাজার টন কয়লা। বছরে লাগবে ৪০ লাখ টন। পায়রাবন্দর দিয়ে নিজেদের জেটিতে সরাসরি আমদানি করা কয়লা পরিবেশসম্মতভাবে খালাস এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ হবে। ২২০ মিটার উঁচু চিমনি দিয়ে কয়েক ধাপে ফিল্টারিং হয়ে বের হবে ধোঁয়া। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শওকত ওসমান বলেন, শেষ পর্যায়ে রয়েছে টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ। বয়লারে ফায়ারিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে উৎপাদন।
পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আসিফ মাহামুদ বলেন, জুলাই মাসে ব্যাকফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে।
