দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। দাবি আদায়ে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সমিতির নেতারা। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে বিদ্যুৎ ভবনে কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে বসেন সারা দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা।
এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আরইবি চেয়ারম্যান অজয় কুমার চক্রবর্ত্তীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে তারা।
বৈঠক শেষে আন্দোলনরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে আমরা আমাদের দুই দফা দাবি উত্থাপনের পাশাপাশি আরইবির নানা অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরি। কিন্তু সচিব আমাদের কোনো কথা না শুনে আরইবির পক্ষে কথা বলেছেন। বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা আশাহত। আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরইবি ও এর অধীন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সব চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে ১ জুলাই থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মী।
অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রাহকরা। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি বিদ্যুৎসেবা চালু রেখেই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র রাজন কুমার দাস জানান, আরইবির স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং সমিতির কর্মীদের ওপর শোষণ, নিপীড়নের কারণে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা বৈষম্য এবং দমন-নিপীড়নের কারণে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গত ১০ মে বৈঠক করেন। ওই সভায় আরইবির প্রতি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আস্থা না থাকার কথা বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা, চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও আরইবির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা—কর্মচারীদের রয়েছে ব্যাপক নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোনো সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।
