রাজশাহী আইএইচটি ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৬ জন বহিষ্কার

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ০১:১৮ এএম

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) সিট-বাণিজ্য ও এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতিসহ ছয় ছাত্রলীগ কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার পাশাপাশি তাদের ক্যাম্পাসে ঢোকার বিষয়ে এবং হোস্টেলে অবস্থানের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মারধরের ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরে আইএইচটি কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নোটিস জারি করে আইএইচটি কর্তৃপক্ষ। আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. ফারহানা হক নোটিসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন, আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন হোসেন (ডেন্টাল অনুষদ, ২০১৯-২০), মাসুদ পারভেজ (ডেন্টাল বি গ্যালারি, ২০২৩-২৪), ফারহান হোসেন (ডেন্টাল বি গ্যালারি, ২০২৩-২৪), শাহরিয়ার নাফিজ (ল্যাব এ গ্যালারি, ২০২৩-২৪), পারভেজ মোশাররফ (ল্যাব এ গ্যালারি, ২০২৩-২৪) ও নিলয় কুমার (রেডিওলজি এ গ্যালারি, ২০২৩-২৪)। আল আমিন হোসেনকে এক বছরের জন্য ও অন্যদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফার্মেসির সিফাতকে তিরস্কার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (ফার্মেসি) হাসানকে প্রশাসনকে না জানিয়ে টাকা দেওয়ার জন্য তিরস্কার করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে।

নোটিসে জানানো হয়, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আল আমিন হোসেন (ছাত্রলীগের সভাপতি) প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসানের কাছ থেকে হোস্টেলে সিট দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন। আর অন্য পাঁচ শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৬ জুন অ্যাকাডেমিক সভায় দোষীদের শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১ জুলাই থেকে শাস্তি কার্যকর হবে।

আইএইচটি ছাত্রলীগ সভাপতি আল আমিন বলেন, ক্যাম্পাসে ছুটি ঘোষণার কিছু আগে বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তবে শাস্তির চিঠি পাননি। তিনি বলেন, বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছিল তখনই। বিভিন্ন সময়ে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা দাবিদাওয়া নিয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন। এ ক্ষোভ থেকেই তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান।

আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. ফারহানা হক বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্তরা ক্যাম্পাসে থাকতে পারবেন না।

গত ২৯ এপ্রিল আইএইচটির ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাসানকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১ মে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী হোস্টেলের সিটের জন্য আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনকে ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। এরপরও তিনি সিট পাননি। ঘটনার দুদিন আগে তিনি টাকা ফেরত চান। টাকা না দিয়ে সভাপতি তাকে উল্টো হুমকি দেন। গত ২৯ এপ্রিল হাসান প্রথম গ্যালারিতে ক্লাস করছিলেন। ক্লাস শেষে হলে পাঁচ-সাতজন ছেলে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত