কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রবিবার সকালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে এগিয়ে আছে টুর্নামেন্টের রেকর্ড ১৪ শিরোপাজয়ী দলটি। তাছাড়া মার্সেলো বিয়েলসা দলটির কোচ হয়ে আসার পর থেকেই বদলে গেছে প্রথম বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল-উরুগুয়ের সমীকরণে অদ্ভুত ভাবে জুড়ে আছে আর্জেন্টিনাও। কারণ কোচ বিয়েলসা একজন আর্জেন্টাইন। লোকে যাকে বলে পাগল বা 'এল লোকো'। অথচ আধুনিক সময়ের ফুটবলে সেরা কোচেরা তাকে মানেন গুরু। পেপ গার্দিওলা, মরিসিও পচেত্তিনো কিংবা ডিয়েগো সিমিওনে, এদের সবার আধ্যাত্মিক গুরু হলেন বিয়েলসা।
অবশ্য কোচ হিসেবে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিয়েলসার পরিসংখ্যান খুব একটা সমৃদ্ধ না। জাতীয় দলের হয়ে তিনটি দেশকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে তার। নিজ দেশ আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকাকালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৮ ম্যাচে মোকাবিলা করেছেন। ৩টিতে জয়ের দেখা পেলেও হেরেছেন ৫টিতেই। যার সবশেষটি ২০০৪ সালে কোপার ফাইনালে। টাইব্রেকারে ব্রাজিলের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভাঙে আলবিসেলেস্তেদের।
চিলির কোচ থাকাকালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তিনবারের দেখায় কোনোবারই পাননি জয়ের দেখা।
গত বছরের ১৫ মে থেকে তিনি আছেন উরুগুয়ের দায়িত্বে। ঐ সময়ের মধ্যে একবারই ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল তার দল। আর সেখানে ২-০ গোলে জয়ের দেখা পান তিনি। অর্থাৎ ব্রাজিলের বিপক্ষে সবশেষ দেখার জয়টা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে বিয়েলসা ও উরুগুয়েকে।
বিয়েলসা বিশ্বাস করেন, ব্রাজিল কৌশল বদলাবে না, 'আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ব্রাজিল একজনের জন্য কৌশল বদলাবে না। ব্রাজিল এমন একটা দেশ যে দেশে অনেক অনেক উইঙ্গার আছে, লেফট এবং রাইট, যারা বিশ্বের বড় বড় ক্লাবে খেলছে। তাই ভিনিসিয়ুসের কাছাকাছি মানের যাকেই তারা বিকল্প হিসেবে দলে নেবে, তাকে থামানোটা আমাদের জন্য সহজ হবে না।'
ব্রাজিলের কোচ দরিভাল জুনিয়র, দেশের অভ্যন্তরে অনেকগুলো ক্লাবের কোচ হিসেবে লম্বা সময়ের অভিজ্ঞতা আছে তার কিন্তু সেই তুলনায় সাফল্য কম। বছর দুই আগে ফ্ল্যামেঙ্গোকে কোপা লিবের্তাদোরেস (চ্যাম্পিয়নস লিগের লাতিন সংস্করণ) জেতানোই তার সর্বোচ্চ সাফল্য। সেমিফাইনালে পৌঁছাতে হলে এই ট্যাকটিকাল মাস্টারমাইন্ড এর চক্রবুহ্য ভেদ করতে হবে দরিভালকে, অথচ এমন ম্যাচেই তার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ভিনিসিউস জুনিয়র নেই। হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন ভিনি।
তার জায়গায় এনদ্রিককে খেলানোর কথা জানিয়েছেন দরিভাল।
দরিভাল বলেছেন, 'আমাদের যে করেই হোক গোল করার উপায় বের করতে হবে। একটা দলের কাজ কতটা হয়েছে সেটা বোঝা যায় যে তারা স্ট্রাইকারকে গোল করার জন্য কতগুলো সুযোগ করে দিয়েছে তার উপর।'
কোপা আমেরিকায় এখনো আকর্ষণীয় ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল, কলম্বিয়ার বিপক্ষে পারেনি এগিয়ে গিয়েও লিড ধরে রাখতে। উরুগুয়ের বিপক্ষে জিততে না পারলে সেটা কোপা আমেরিকা থেকে বিদায় তো নিশ্চিত করবেই, সেই সঙ্গে বড় ধাক্কা দেবে ২০২৬ এর বিশ্বকাপ স্বপ্নকেও।
