টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চার বছর আগে নির্মিত বাস টার্মিনালে এখনো যানবাহন রাখা হচ্ছে না। সেখানে রাখা হচ্ছে খড়ের গাদা আর নির্মাণসামগ্রী। ধানের মৌসুমে সেখানে চলে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ। আর যানবাহন থাকে সড়কের ওপর।
সড়ক বিভাগের স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে তৎকালীন সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের উদ্যোগে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পোস্টকামুরীতে যানবাহন রাখার জন্য টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। টার্মিনালের সঙ্গে সেখানে গণশৌচাগারও নির্মিত হয়। তবে নির্মাণের পর থেকে সেখানে যানবাহন রাখার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় টার্মিনালটি খালি পড়ে আছে। এই সুযোগে স্থানীয় অনেকেই সেখানে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করছেন। স্থানীয়রা মৌসুমে টার্মিনালে ধান মাড়াই করেন ও খড় শুকান। ব্যবহার না হওয়ায় টার্মিনালটির প্রায় অর্ধেক জায়গা আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ছেয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী এবং কয়েকটি খড়ের গাদা।
পোস্টকামুরী এলাকার টার্মিনাল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পুরনো বাসস্ট্যান্ড। বাসস্ট্যান্ড থেকে পোস্টকামুরী বড়বাড়ি পর্যন্ত এলাকায় কখনো সারিবদ্ধভাবে আবার কখানো এলোমেলোভাবে রাখা হচ্ছে বাস। এতে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
মির্জাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পোস্টকামুরী গ্রামের আবদুল জলিল খান বলেন, ‘টার্মিনালে যানবাহন না থাকায় স্থানীয়রা তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। নিয়মিত যানবাহন থাকলে সেখানে কেউ কিছু রাখতে পারবে না।
মির্জাপুর বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বলেন, ‘মির্জাপুর থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত অন্তত ৩০টি বাস চলাচল করে। বাসগুলো রাস্তায় রাখা হচ্ছে। কারণ টার্মিনালে রাখার কোনো পরিবেশ নেই। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে কিছুদিন রেখেছিলাম। সেখানে পানির ব্যবস্থা নেই, শ্রমিকদের বসার জায়গা নেই। সে জন্য বাসগুলো এখন আমরা টার্মিনালে রাখছি না।’
মির্জাপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, যানবাহন রাখার জন্য টার্মিনালটি নির্মিত হয়েছে। সেখানে যানবাহন রাখা হচ্ছে না। টার্মিনালে যানবাহন না থাকায় স্থানীয় লোকজন নির্মাণসামগ্রী রাখছে এবং ধান মাড়াই করছে। নির্মাণসামগ্রী সেখান থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালে নিয়মিত যানবাহন রাখা হলে শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে।
