সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জামালপুরে বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫৪ পিএম

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগে রয়েছেন পাঁচটি উপজেলার পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। যমুনা নদীর পানি কমে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলেও ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, টিউবওয়েল, শৌচাগার এখনো তলিয়ে রয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ৩৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর পানি কমে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরিষাবাড়ির জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি জামালপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তার তথ্য মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ৪১টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫৮ হাজার ৫৩২টি পরিবারের ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পনেরটি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৮ জন মানুষ। বানভাসী মানুষের জন্য ১ হাজার ১০০ মেট্রিক টন চাল, ২২ লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৩৫ মেট্রিক টন চাল, ৭ লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আর ৭৭৫ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করায় এ পর্যন্ত জেলায় ২৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে দেওয়ানগঞ্জে ৮১ টি, বকশীগঞ্জে ১১ টি, ইমলামপুরে ৩৮ টি, মাদারগঞ্জে ৮৫ টি সরিষাবাড়িতে ২৪ টি ও মেলান্দহে ৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানি প্রবেশ করায় জেলায় এ পর্যন্ত ৮৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানগঞ্জে ২৫টি, বকশীগঞ্জে ১৫টি, ইমলামপুরে ২৯টি, মাদারগঞ্জে ৯টি, সরিষাবাড়িতে ৯টি ও মেলান্দহে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে পানি প্রবেশ করেছে সেইসব প্রতিষ্ঠানে মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা মতো পরবতীর্তে সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি কমলেও ইসলামপুর দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনো তলিয়ে রয়েছে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, বীজতলা ও ফসলি জমি। এখনো টিউবওয়েল, শৌচগার তলিয়ে রয়েছে। দুর্ভোগ কমেনি বানভাসী মানুষের।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যমুনা নদীর পানিতে পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।’

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪ থেকে ৫দিন পানি কমবে বলে তিনি জানান।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত