অনন্তকালের সুখময় জীবন

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ এএম

মৃত্যুর পর শুরু হয় অনন্তকালের যাত্রা। বান্দার এ যাত্রা মসৃণ হবে, না কঠিন হবে তা নির্ভর করে তার দুনিয়ার জীবনের কার্যক্রমের ওপর। বান্দা যদি মহান আল্লাহর নির্দেশমতো চলে দুনিয়ার জীবনকে নেক আমল দ্বারা সজ্জিত করতে পারে তাহলে পরকালে থাকবে জান্নাতের অফুরান নেয়ামত। সেখানে কাটবে অনন্তকালের সুখময় জীবন। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং তোমাদের সবাইকে কেয়ামতের দিন (তোমাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তখন যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই প্রকৃত অর্থে সফল।’ (সুরা আলে ইমরান ১৮৫)

দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য পরীক্ষা-স্বরূপ। মানুষ যদি দুনিয়ার পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারে তাহলে পরকালে পাবে অফুরান শান্তির জান্নাত। জান্নাতে তারা যা কামনা করবে, তাই পাবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘সেখানে (জান্নাতে) তোমাদের জন্য রয়েছে, যা তোমরা ফরমায়েশ করো। এটি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।’ (সুরা হামিম সাজদা ৩১-৩২)

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াতে কৃতকার্য বান্দাদের জন্য জান্নাতে রয়েছে অপার নেয়ামত। সেখানে থাকবে মধু, দুধসহ নানা সুপেয় পানীয়। জান্নাতের ইট হবে সোনা-রুপা দ্বারা তৈরি। কঙ্কর হবে মণিমুক্তা, আর মসলা হলো সুগন্ধীময় কস্তুরী। জান্নাতের সব গাছের কাণ্ড হবে সোনার। জান্নাতবাসী লোম, গোঁফ ও দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোখ সুরমায়িত হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জান্নাতে এমন সব নেয়ামত প্রস্তুত রয়েছে, যা কখনো কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো অন্তর কল্পনাও করেনি।’ (সহিহ বুখারি ৩২৪৪)

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমার দিন জান্নাতি লোকজন সেখানে একত্রিত হবেন। এরপর উত্তর দিক থেকে আসা মৃদু বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধুলাবালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে যাবে। শরীরের রঙ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এরপর তারা নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে। এসে দেখবে, তাদের পরিবারের লোকদের শরীরের রঙ ও সৌন্দর্য বহুগুণে বেড়ে গেছে। পরিবারের লোকেরা তাদের বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য বেড়ে গেছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের সৌন্দর্যও আমরা তোমাদের কাছ থেকে যাওয়ার পর বেড়ে গেছে।’ (সহিহ মুসলিম ২৮৩৩)

জান্নাতে কাউকে কখনো দুঃখ-কষ্ট বা দুশ্চিন্তা স্পর্শ করতে পারবে না। জান্নাতে থাকবে সমবয়সী সুন্দরী সঙ্গিনী। পূর্ণিমার চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জান্নাতিদের অন্তরে থাকবে না কোনো হিংসা-বিদ্বেষ। তাদের প্রস্রাব-পায়খানা হবে না। তারা থুথু ফেলবে না। তাদের চিরুনি হবে সোনার। তাদের ধুনির জ্বালানি হবে আগরের। তাদের গায়ের গন্ধ হবে অত্যন্ত সুগন্ধিযুক্ত। জান্নাতিদের পোশাক-পরিচ্ছদ কখনো ময়লা হবে না, পুরনো হবে না। তাদের যৌবন কখনো নিঃশেষ হবে না। জান্নাতবাসী সবসময় জীবিত থাকবে। কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। সবসময় যুবক-যুবতি থাকবে, বৃদ্ধ হবে না। হাদিসে বর্ণিত আছে, আল্লাহতায়ালা জান্নাতবাসীর উদ্দেশে বলবেন, ‘আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্টি অবধারিত করব। অতঃপর আমি আর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না।’ (সহিহ বুখারি ৫৪৯)

জান্নাতের অন্যতম পুরস্কার হলো, জান্নাতিরা যা কামনা করবে, সবই পাবে। জান্নাতে এমন একটি মুহূর্ত আসবে, যখন জান্নাতিরা আল্লাহকে নিজ চোখে দেখতে পাবে। হাদিসের বর্ণনা মতে, সেই মুহূর্তে তারা এর আগে প্রাপ্ত সব নেয়ামতের কথা ভুলে যাবে। অর্থাৎ একটু আগেও যেসব নেয়ামতের কারণে তারা সুখী ও আনন্দিত ছিল, সেসব নেয়ামতকে আল্লাহর দিদারের তুলনায় ফিকে মনে হবে। এর আগে তারা কল্পনাও করেনি, মহান আল্লাহর দিদার এতটা সুখকর ও প্রশান্তিময় হতে পারে! জান্নাত লাভের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত অহিতকর কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে হেফাজত করা। আর ন্যায় ও সত্যের পথে নিজেদের নিয়োজিত কর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত