রাজবাড়ী থেকে চীন-জাপান যাচ্ছে কুঁচিয়া 

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩০ পিএম

রাজবাড়ী থেকে চীন-জাপানসহ চার দেশে রপ্তানি হচ্ছে কুঁচিয়া মাছ। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি আয় হচ্ছে বৈদাশিক মুদ্রা। তবে কুঁচিয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ শিকারের কারণে কমে যাচ্ছে কুঁচিয়ার বংশবিস্তার। 

কুঁচিয়া ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বালিয়াকান্দি, পাংশা, গোয়ালন্দ, পাঁচুরিয়া ও মাছপাড়া এলাকায় কুঁচিয়া সংগ্রহ হয় বেশি। কুঁচিয়া মাছ বুনো ও বাগদী সম্প্রদায়ের লোকেরা খাল, বিল ও পুকুর থেকে সংগ্রহ করেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিকেজি মাছ ২৫০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা দরে কেনা হয়। এরপর পানিভর্তি হাউজে মজুত করে রাখা হয়। 

তারা আরও জানান, এরপর মজুত করা কুঁচিয়া মাছ ঢাকায় নিয়ে চীন, জাপান, কোরিয়া ও ভিয়েতনামে রপ্তানি করা হয়। সেসব দেশে এ মাছ প্রতিকেজি ১১০০-১৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। অনেক সময় সংগ্রহকালে কুঁচিয়া মারা যায়। সেগুলো ফ্রিজে রেখে সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। এই মাছ চিংড়ি শিকারের কাজে ব্যবহার করা হয়। 

রাজবাড়ী শহরের বাগদীপাড়া এলাকার কুঁচিয়া ব্যবসায়ী প্রকাশ সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কুঁচিয়া রাখার জন্য ইট দিয়ে পাকা হাউজ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আকারভেদে কুঁচিয়া রাখা রয়েছে। হাউজের পাশাপাশি বড় প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যেও রাখা হয়েছে কুঁচিয়া। দুজন কর্মচারী কুঁচিয়া বাছাই করছেন। ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাছই করা কুঁচিয়া ঝুড়িতে ভরছেন। 

সংগ্রহ করা কুঁচিয়া মাছ | ছবি: দেশ রূপান্তর

পরিমল সুজন নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, তারা পরিচিত একজনের মাধ্যমে কুঁচিয়া মাছ রপ্তানির বাজারের সন্ধান পান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারদের মাধ্যমে কুঁচিয়া সংগ্রহ করেন। প্রতিকেজি কুঁচিয়া ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকায় কিনেন। এরপর ছোট্ট পরিসরের কারখানায় এগুলো সংরক্ষণ করা হয়। পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ মাছের ক্রেতা প্রধানত চীন। তাছাড়াও জাপান, কোরিয়া ও ভিয়েতনামেও এগুলো রপ্তানি করা হয়। সেখানে প্রতিকেজি কুঁচিয়া মাছ ১০-১২ ডলারে বিক্রি হয়ে থাকে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণত বর্ষাকালে কুঁচিয়ার প্রজননের সময়। এসময় নতুন পানি আসলে তারা ডিম পাড়ে। অঞ্চলভেদে কুঁচিয়া, কুঁচে, কুঁচো, কুঁইচ্চা নামেও—এই মাছ পরিচিত। অগভীর খাল-বিল, হাওড়-বাঁওড়, পুকুর, ধানক্ষেত ও কাঁদা মাটিতে বসবাস করে তারা। অনেক সময় মাটিতে গর্ত করেও লুকিয়ে থাকে কুঁচিয়া।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‌‘রাজবাড়ীতে কোথাও কুঁচিয়ার খামার নেই। স্থানীয়ভাবে এই মাছের গ্রহণযোগ্যতা কম। এজন্য কোনো খোলা বাজার গড়ে ওঠেনি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কুঁচিয়ার চাহিদা রয়েছে। ঢাকার উত্তরায় একটি কুঁচিয়ার আড়ৎ আছে। রাজবাড়ীসহ সারাদেশ থেকেই সেখানে কুঁচিয়া নিয়ে আসে। সেখান থেকে এই কুঁচিয়া বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। সেদিক থেকে বিচার করলে—এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। অল্প জায়গায় কম খরচে কুঁচিয়া চাষ করা যায়। যদি কেউ কুঁচিয়া চাষে আগ্রহী হয়, আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করার চেষ্টা করবো।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত