আড়াই কিলোমিটার সড়ক খুঁড়েই লাপাত্তা, জনদুর্ভোগ

  • সড়ক সংস্কারে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ
  • কার্পেটিং না করায় চলতে পারছে না যান
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ১১:০৩ পিএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি করেই পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কবলে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে বিড়ম্বনা। কার্পেটিং না করায় চলতে পারছে না যানবাহন।

জানা যায়, দুই বছর আগে উপজলার বৌলতলীর নওপাড়া বাজার থেকে ঘোলতলী বাজার সড়কটি সংস্কারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রূপালী কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হচ্ছে ইকবাল হোসেন। গত বছরের মে মাসে সড়কটির সংস্কারকাজ ধরা হয়। ৭—৮ মাস কাজ করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক খোঁড়া হয়। এরপর থেকে উধাও তারা।

স্থানীয়রা জানান, নওপাড়া বাজার থেকে ঘোলতলী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলামিটারের সড়ক। ধারারহাট লাল মসজিদের পূর্ব পাশে প্রায় আড়াই কিলোমিটার খুঁড়ে সংস্কারকাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরপর গত ৭ মাসেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার হাজারো মানুষ।

দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার লোকজন জানান, রাস্তা খুঁড়ে রাখার কারণে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুইটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিচ্ছে। নওপাড়া, সুরপাড়া, ধারারহাট, মাধাইসুর, শাসনগাঁও, পশ্চিমপাড়া, মাইজগাঁও ও পয়শা গ্রামের মানুষ চলাচল করতে গিয়ে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাচ্ছে। খানাখন্দে ভরপুর রাস্তাটিতে প্রায়ই সময় অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে যাত্রী সাধারণ আহত হচ্ছে।

রমজান নামক এক মিশুক চালক বলেন, ‘প্রায় সময় রাস্তার মধ্যে গাড়ি আটকে যায়। বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে তারপর খালি গাড়ি চালিয়ে আসতে হয়। রাস্তাটি অতি দ্রুত মেরামত করার দাবি জানাচ্ছি।’

বৌলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক শিকদার বলেন, ‘এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা ছিল। এরপর সংস্কারের জন্য দরপত্রও হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কটির কাজ না করেই পালিয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ করার কথা।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। দেড় শ কেজি বিটোমিনের দাম আগে ছিল ৮ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ১৪ হাজার টাকা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যখন ট্রেন্ডার পেয়েছি, তারপর থেকে সবকিছুর মূল্য হু হু করে বেড়ে গেছে। এখন এ কাজটি করলে লোকসান গুণতে হবে। তাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য খনন করা আড়াই কিলোমিটার সড়কটি কার্পেটিং করে দেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবহাওয়া ভালো হলে এর কাজ শুরু করব।’

উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ বলেন, ‘দুই বছর আগে রূপালী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারীরা ইকবাল হোসেন ৫ হাজার ৮৫০ মিটার সড়কটির জন্য ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বরাদ্দ পান। দেড় বছরের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি ২ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি। আমরা দ্রুত কাজ করে দেওয়ার জন্য কয়েক বার চিঠি দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা খনন করেছে। একপর্যায়ে সেটুকু রাস্তাই কার্পেটিং করে দিতে বলেছি। প্রতিষ্ঠানটি কার্পেটিং করে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত