বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যকরভাবে রক্ষা এবং আন্তঃরাষ্ট্র সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা ও জাতীয় রাজস্ব ফাঁকি রোধে জাতীয় সংসদকে গুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে উচ্চ আদালত। ৩৬ বছরের বেশি সময় আগে যশোরে চোরাচালানের অভিযোগের মামলায় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া তিন বছর কারাদন্ডাদেশ বাতিল করে তাকে খালাসের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ। ১১ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
হাইকোর্ট যেসব পরামর্শ দিয়েছে সেগুলো হলো ১. সীমান্তরেখা থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০ মাইল পর্যন্ত সীমান্ত এলাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সম্পত্তি ঘোষণা করা ২. উক্ত ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সব ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতঃ সমমূল্যের সরকারি খাস সম্পত্তি থেকে তাদের বরাদ্দ প্রদান ৩. সীমান্ত লাইন থেকে ৮ কিলোমিটার ভূমি সম্পূর্ণ ফাঁকা এবং সমান রাখা, যেন এই ৮ কিলোমিটারের প্রতিটি ইঞ্চি ৮ কিলোমিটার দূর থেকে পরিষ্কার দেখা যায় ৪. সীমান্ত রেখা থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার মধ্যবর্তী স্থান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের যাবতীয় স্থাপনা, প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কর্মকান্ডের জন্য সংরক্ষিত রাখা।
জানা গেছে, ১৯৮৭ সালের ২ ডিসেম্বর যশোরের চাচড়া রায়পাড়া গ্রাম থেকে ১৫ পিস ভারতীয় শাড়িসহ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি)। আসামির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। বিচার শেষে ১৯৮৮ সালের ১৩ এপ্রিল যশোরের বিচারিক আদালত জাকিরকে তিন বছর কারাদন্ডাদেশ দেয়। পরে মামলাটি আপিল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে আসে। শুনানি শেষে গত বছরের ৩ আগস্ট রায় দেয় হাইকোর্ট। শহরের উপকণ্ঠে এসে আসামির বসতঘরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তল্লাশি চালানোর এখতিয়ার আছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট এসব পরামর্শ ও অভিমত দেয়। এ রায় ও আদেশের অনুলিপি অধস্তন আদালতের সব বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, বিজিবির মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র সচিবের উদ্দেশে পাঠাতে বলেছে হাইকোর্ট।
