কোটা আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে : হারুন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৪ এএম

কোটা সংস্কার নিয়ে চলমান আন্দোলন অন্য কারও ইন্ধনে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে। ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে। গতকাল শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আদালত ও পুলিশের কথা না মেনে আন্দোলনের নামে জান-মালের ক্ষতি আর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠিন সিদ্ধান্তে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কোটা শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই প্রচলন রয়েছে। কোটার বিরোধিতা করে কিছু লোক, কিছু শিক্ষার্থী রাস্তায় আন্দোলন করছে। ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট সবার ভরসাস্থল। আদালতের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। কেউ যদি মনে করে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না; তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করব।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কি না, ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কি না এসব নিয়ে ডিবির টিম ও থানা-পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা না মেনে আন্দোলনে নামে, সড়কে নেমে অবরোধ করে, গাড়িতে হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে, তবে আমরা ধরে নিতে পারি অনুপ্রবেশকারীরাই এসব কাজ করছে।’

এদিকে, চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, যানবাহনে গতিরোধ ও মারধরের ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় আসামি হিসেবে অজ্ঞাতপরিচয় অনেক উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ১১ জুলাই কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অজ্ঞাতপরিচয় ছাত্ররা জড়ো হয়ে বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে বিকেল ৪টার সময় স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে বেআইনি জনতায় আবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করেন। তারা শাহবাগ মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন ও পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে জখম করেন।’

মামলার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এপিসিতে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে।’ শুক্রবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পরিবহন বিভাগের গাড়িচালক খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় এ মামলা করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত