২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ী হামেস রদ্রিদেজ ফুটবল অঙ্গন থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদে তিন বছর কাটিয়ে ২০২০ সালে তিনি যান এভারটনে। তখন থেকেই রদ্রিগেজের ক্যারিয়ার রং হারায়। ভালো কোনো ক্লাবে যেতেও পারছিলেন না। একপর্যায়ে কাতারের ক্লাব আল রায়ানে খেলছিলেন। অর্থাৎ শীর্ষ সারির ফুটবল থেকে রদ্রিগেজ তখন অনেক দূরে। সেই অবস্থা থাকে তাকে নতুন জীবন দিলেন কলম্বিয়ার কোচ নেস্তর লরেনজো।
২০২২ সালের রেইনালদো রুয়েদাকে সরিয়ে লরেনজোকে কলম্বিয়ার প্রধান কোচ করা হয়। তিনি কলম্বিয়ার ফুটবলকে আদৌ সাফল্য এনে দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কাও ছিল কলম্বিয়ানদের। লরেনজো কোনো সমালোচনা কানে না তুলে নিজের আদর্শ ও দর্শন নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তার প্রথম বড় পদক্ষেপ ছিল হামেস রদ্রিগেজকে দলে ফেরানো। তখন কলম্বিয়ার ফুটবলাঙ্গনের প্রায় পুরোটাই লরেনজোর বিরোধিতা করলেও তাকে টলাতে পারেনি।
রদ্রিগেজের সামর্থ্য নিয়ে লরেনজোর কোনো সন্দেহ ছিল না। তাই তিনি নিজে কাতারে গিয়ে দেখা করেন রদ্রিগেজের সঙ্গে। কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, কাতার থেকে বেরিয়ে আরও শক্তিশালী কোনো লিগে খেলতে। রদ্রিগেজ তখন আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে যোগ দেন। সেটি ছিল রদ্রিগেজের জাতীয় দলে ফেরার প্রথম ধাপ। সেখান থেকে তিনি চলে আসেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সাও পাওলোতে।
এতকিছুর পরও ফিটনেসের অভাবে রদ্রিগেজ জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু লরেনজোও যেন ছাড়ার পাত্র নন। কোচের থেকে সাহস আর ভরসা পেয়ে নিজেকে ফিট করতে উঠেপড়ে লাগেন রদ্রিগেজ। সেই প্রচেষ্টার ফলেই এবার তিনি কোপা আমেরিকার ফাইনালে। চলতি আসরের অন্যতম সেরা পারফর্মারও ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার, যার ক্যারিয়ারের পুনরুত্থান মূলত লরেনজোরই অবদান।
রদ্রিগেজকে দলে ফেরানোর ব্যাপারে এতটা মরিয়া হয়ে ওঠার কারণ নিয়ে কলম্বিয়াকে টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত রাখা লরেনজো বলেছিলেন, “মাঝমাঠকে অটুট রাখতে আমার এটা করা দরকার ছিল। এর ফলে বলের নিয়ন্ত্রণও অনেক বেশি আমাদের কাছে থাকে। এটি আমাদের আগ্রাসী থাকতেও সহায়তা করে। তবে এটাই আমাদের খেলার একমাত্র পদ্ধতি নয়। আমরা ম্যাচের মধ্যেই কৌশলে পরিবর্তন নিয়ে আসি।”
কলম্বিয়া কোচকে রেস্টুরেন্টে খেতে ডেকেছিলেন স্কালোনি
গুরু-শিষ্যের জটিল সমীকরণে লরেনজো-মেসি-স্কালোনি
ডি মারিয়াকে বেশি গোল করতে নিষেধ করতেন কোচ!