একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩১ এএম

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ পাঁচ ইস্যুতে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকায় দুটি সমাবেশসহ সারা দেশে তিন থেকে চারটি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে দলটি। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব শরিক দল ও জোটকে এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা হবে। গত শনিবার বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে এসব গুচ্ছ কর্মসূচি পালনের প্রস্তাব এলে তা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্তের জন্য রাখা হয়। আজ সোমবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে।

এদিকে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দল ও জোটের সঙ্গে চার দিন ধরে চলা বৈঠকেও মাঠের কর্মসূচির ধরন নিয়ে প্রস্তাবনা নিচ্ছে বিএনপি। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জড়িতদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ ও তাদের বিচার করতে গণআদালত গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন জোট নেতাদের কেউ কেউ।

বিএনপির অন্তত দুজন যুগ্ম মহাসচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকে আগামী শনিবার ঢাকায় সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ, সমাবেশ, পদযাত্রা, গণমিছিল, রোডমার্চ, লংমার্চ, মানববন্ধন, অনশন, অবস্থান, কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাজধানীর সমাবেশ থেকে গুচ্ছ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতের ট্রেন চলাচল শুরু হলে এর জোরালো প্রতিবাদ জানাবে বিএনপি। তখন ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশের মতো আরও কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্র্যালয়ে গত শনিবার বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ‘অসম চুক্তি’, সরকারের ‘সীমাহীন দুর্নীতি’, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতার’ প্রতিবাদে সর্বাত্মক কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তাব দেন বৈঠকে উপস্থিত নেতারা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিএনপি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সরাসরি বিরোধিতা করবে না। তবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে এমন কোনো চুক্তি কিংবা দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়, এমন বিষয়ে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধিতা করবে তারা। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী এবং সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ অনেকের দুর্নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘটনা মিলিয়ে এখনই আন্দোলন জোরদার করার মোক্ষম সময় বলে মত দিয়েছেন দলের নেতারা।

এদিকে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই থেকে মাঠের কর্মসূচি নিয়ে তাদের মতামত নিচ্ছে বিএনপি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এসব বৈঠক শেষ হবে। এর মধ্যে গতকাল রবিবার বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ লেবার পাটি (একাংশ), জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন বিএনপির নেতারা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ‘গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য’, ‘এনডিএ’, ‘গণফোরাম’ এবং ‘বাংলাদেশ পিপলস পার্টি এবং শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি (একাংশ), সন্ধ্যায় এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। গত শনিবার গুলশানে গণ অধিকার পরিষদ (নূর) এবং মগবাজারে এলডিপির (অলি) সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক হয়।

শরিক দল ও জোটের নেতারা জানিয়েছেন, বৈঠকে ঢাকায় সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের মতো প্রচলিত আন্দোলনের কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকা থেকে দেশের তিনপ্রান্ত অভিমুখী রোড মার্চ কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিএনপি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে বলেছে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে জড়িতদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ ও তাদের বিচার করতে গণআদালত গঠনের প্রস্তাব করেছেন শরিকদের কেউ কেউ।

গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি-একাংশ) সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনা করতে আমরা শরিক জোট ও দলের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যুগপৎ এই আন্দোলনে আরও দল ও জোট রয়েছে। তাদের সঙ্গেও পর্যায়ক্রমে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে এবং আপনাদের সামনে ঘোষণা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার দেশে সংকট রয়েছে। বিদ্যমান সংকট হলো গণতন্ত্রহীনতার সংকট। অনাচার ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করে দিয়েছে। এসব বিদ্যমান সংকট-সমস্যা সমাধানে আমাদের এক দফা কর্মসূচি চলছে। এক দফা আন্দোলনের বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের সংকটের সমাধান হবে না।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন সম্পর্কে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা যখন শপথ গ্রহণ করেন, তখন বলেন রাগের বশীভূত হয়ে বা বিরাগভাজন হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিন্তু আমরা দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বিরাগভাজন হয়ে বলে দিলেন, কোটা বাতিল হবে না। শিক্ষার্থীদের যুক্তিসংগত দাবির প্রতি বিএনপির সমর্থন রয়েছে।’

নজরুল ইসলাম খান ছাড়াও বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও আবদুল আউয়াল মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত