কোটা আন্দোলনকারী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জরুরি সভায় বসেছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। সোমবার বিকেল ৫টায় এ সভা শুরু হয়। এসময় বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা উপস্থিত আছেন বলে জানা যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক এখনও চলমান রয়েছে।
সূত্র বলছে, ক্যাম্পাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কি করণীয় এবং হলগুলোতে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে বিষয়ে জরুরি প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরেকটি সূত্র বলছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্তত ১০ দিনের জন্য হল বন্ধ ঘোষণা হতে পারে। প্রভোস্টদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ক্যাম্পাসের এমন পরিস্থিতির বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএস এম মাকসুদ কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে কথা বলছি।
এর আগে সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাবির বিজয় একাত্তর হলে আন্দোলনকারীদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আটকে রাখে। এসময় শিক্ষার্থীরা হল চত্বরে ও গেটের বাইরে অবস্থান করছিলেন। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলের ভেতর থেকে ও বিভিন্ন তলা থেকে জুতা ও ইট নিক্ষেপ করে। প্রথমে শিক্ষার্থীরা পাল্টা জবাব না দিলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু ইট নিক্ষেপ শুরু হলে পালটা জবাব দেয় আন্দোলনকারীরা।
পরে মূল আন্দোলনকারীরাও সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। একই সময় বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সাথে যোগ দেয় জিয়া হল, বঙ্গবন্ধু হল ও জসীমউদ্দিন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়।
এ সময় হঠাৎ বঙ্গবন্ধু হলের পকেট গেট দিয়ে ঢুকে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, ঢাকা জেলা উত্তর, দক্ষিণ ও ছাত্রলীগের অন্যান্য ইউনিটের নেতাকর্মীরা একযোগে হামলা চালালে পিছু হটে আন্দোলনকারীরা। ধাওয়া পালটা ধাওয়া চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধরে রড, স্ট্যাম্প, হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হলে ক্যাম্পাস দখলে নেয় ছাত্রলীগ।ফা
