ড. ইউনূসের মন্তব্যের নিন্দা

কূটনীতিকদের ধ্বংসযজ্ঞ দেখাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:২৭ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের যেসব স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কূটনীতিকদের আমরা নিয়ে যাব। আগামীকাল (আজ বুধবার) সেটির আয়োজন করতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া নিজস্ব কনটেন্ট বানিয়ে আবারও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমরা আমাদের মিশনগুলোকে সতর্ক করেছি।’

গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, টোলপ্লাজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডেটা সেন্টার, সাবমেরিন কেব্ল কেটে দেওয়া হয়েছে। এগুলো রাষ্ট্রের ওপর হামলা। এগুলো সরকারের সম্পত্তি নয়। এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, জনগণের সম্পত্তি। এগুলো রাষ্ট্রের গর্ব। সেগুলোর ওপর যে হামলা হয়েছে, সে বিষয়গুলো আমরা আমাদের মিশনের মাধ্যমে সেখানকার কমিউনিটি এবং সেখানকার সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব স্থাপনা যেহেতু মেরামত করতে হবে, তখন আর স্বচক্ষে দেখার সুযোগ থাকবে না।

চলমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা, দুজন সাংবাদিক নিহতের ঘটনা এবং গণমাধ্যমের গাড়ির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণমাধ্যম দেশের জন্য কাজ করে, জনগণের জন্য কাজ করে, সেই গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের হত্যা করা হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন।

গুজব ছড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নানা গুজব রুখতে বিদেশি বাংলাদেশি মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যার বিষয়ে সরকারের কাছে সঠিক কোনো তথ্য রয়েছে কি না এই প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, এটা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, মৃতের সংখ্যা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিদেশি অর্থায়নের বিষয়ে সরকারের একজন মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন এবং এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক কোনো ইন্ধন আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তো বিএনপি-জামায়াত রয়েছে। তাদের সঙ্গে তো আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে।

দেশের এই পরিস্থিতিতে বিদেশি দূতাবাসগুলো তাদের কর্মীদের ঐচ্ছিক ছুটি দিয়েছে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কেমন এই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। দূতাবাসের কর্মীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও তিনি জানান। দু-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমরা দূতাবাসগুলোকে আশ্বস্ত করেছি।’

হামলা ও সহিংসতা এলাকাভিত্তিক হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় চারটি স্পটে হয়েছে, সে ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল এই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের রাজপথে থাকতে বলা হয়েছে। আমাদের কর্মীরা রাজপথ পাহারা দিয়েছে। সংঘাতে জড়ায়নি।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নেতিবাচক খবর প্রকাশ প্রসঙ্গে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘কাতারে যিনি বাংলাদেশের অ্যাম্বাসাডর আছেন, এরই মধ্যে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আলজাজিরা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। বাংলাদেশ থেকে আলজাজিরার হয়ে যিনি সংবাদগুলো দিচ্ছেন, সেগুলো ফলস এবং তৈরি করা।’

চলমান ঘটনা নিরসনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে ড. ইউনূসের নিবন্ধ রাষ্ট্রদ্রোহীর শামিল বলে মনে করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের একটি বিবৃতি দেখেছি। সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছে বলে তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। বিশ্বনেতাদের এ ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বিদেশিদের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন হস্তক্ষেপ করার জন্য। এটা রাষ্ট্রবিরোধী।’

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার ওপর সরকারের হামলা, দমন, নির্যাতন বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার প্রটেক্ট ইউনূসের সাইটে জানানো হয়েছে, বিশ্বনেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ড. ইউনূস বলেছেন, কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব হামলা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বনেতাদের ও জাতিসংঘকে তাদের সামর্থ্যরে সর্বশক্তি দিয়ে বাংলাদেশে বিক্ষোভকারী হত্যা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দেশে সংঘটিত শিক্ষার্থী ও জনতা হত্যার তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘দেশে ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ সুবিধা বন্ধ থাকায় আমার এই আহ্বান সারা দেশের মানুষ জানতে পারবেন কি না জানি না। তবে বিশ্বের শুভবোধসম্পন্ন সবাই আমার আহ্বানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বিশ্বনেতাদের বলুন।’

এদিকে ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় রক্ত ঝরছে’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের উদ্যোগ বা বক্তব্য কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জির প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সেজন্য আমরা তার এই বক্তব্যের ব্যাপারে ভারত সরকারকে ইতিমধ্যে একটি নোট দিয়ে জানিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত