বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলন ও চলমান কারফিউর প্রভাব পড়েছে চাঁদপুরের ইলিশের পাইকারি আড়ৎ বড় স্টেশন মাছ ঘাটে। লঞ্চ ও গণপরিবহন চলাচল কমে যাওয়ায় ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে বাজারে। এতে ইলিশের দাম কমেছে কেজিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ছোট ব্যবসায়ী বন্ধ রেখেছে মাছ বিক্রি। তবে তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কিনতে পেরে খুশি সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে না পারায় বিক্রি হচ্ছে কম। ফলে দাম কমেছে ইলিশের, বিক্রি করতে না পারায় অনেক মাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে ছোট ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে মাছ বেচাকেনা বন্ধ করে দিয়েছে।
ইলিশ ব্যবসায়ী নবীর হোসেন বলেন, বেচাকেনা কম হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীর মাছ বরফে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লোকসানে পড়তে হচ্ছে আমাদের। আমরা দ্রুত ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেতে চাই।
বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, যা ১০ দিন আগেও বিক্রি হত ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। তাছাড়া ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ১২০০ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ ৮০০-৮৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ইলিশের দাম কমায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাইরের মানুষ কম আসায় দাম অনেকটা কমেছে। এতে করে অল্প টাকায় ইলিশ কেনার সুযোগ পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। দাম আরো কমলে সকল শ্রেণির মানুষ ইলিশের স্বাদ নেয়ার সুযোগ পাবে।
শহরের মমিন পাড়া এলাকার বাসিন্দা আলম পলাশ বলেন, এ বছর শুরু থেকেই ইলিশের দাম অনেক বেশি। তবে গত ২-৩ দিন ধরে দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজির ওজনের মাছ ১৪০০-১৫০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। তাছাড়া ছোট সাইজের ইলিশ আরো কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের জন্য সুবিধা হয়েছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শবে বরাত বলেন, বর্তমানে ঘাটে ৩০০-৩৫০ মণ ইলিশ আসছে। তবে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আসতে না পারায় মাছের বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়নি: র্যাব ডিজি