রাজধানীর সেতু ভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতায় সরাসরি জড়িত দুইজনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এছাড়া আরও ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটক এই সাতজন বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে এই নাশকতায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. হারুন অর রশিদ।
আজ বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে অর্থের বিনিময়ে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী, মহাখালীর সেতু ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িতরা হচ্ছেন মো. রাকিব (২২) ও মো. জজ মিয়া। এছাড়া এসব হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইন্ধনদাতারা হচ্ছে- ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, সানিয়াত ভুলু (বরকত উল্লাহ ভুলুর ছেলে), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন খোকন ওরফে কাইল্লা খোকন, কৃষক দলের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান দয়াল, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন ও জামায়াতে ইসলামীর ভাটারা থানার আমীর রেজাউল করিম।
অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, কোট সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে এসব নাশকতায় জড়িতদের একে একে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাকিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যবহার করে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ও জামায়াতে ইসলামীর সহযোগিতায় তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার মাধ্যমে সহিংস ঘটনা ঘটায়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের তথ্য প্রযুক্তি তথা ডাটা সেন্টারে যারা হামলা করেছে, তারাই গত ১৯ জুলাই জামায়াত-শিবির ও বিএনপি কিছু নেতার সহযোগিতায় সেতু ভবন, বিটিভি ভবন ও মেট্রোরেল স্টেশনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে এসব সহিংসতা চালানো হয় বলে আটককৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আটককৃতদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। এসব হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা ইন্ধন দিয়েছে, কারা অর্থ দিয়েছে সব জেনেছি। পরে এসব তথ্য বিস্তারিত জানাবো।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটককৃতদের মোবাইল ফোনে নাশকতার নির্দেশনার মেসেজ পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে আটক করা হচ্ছে।
