শিহাব (১৭)। বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় ফুপাতো ভাইয়ের ফার্নিচার দোকানে কাজ করতেন। দোকানে কাজ করে যা আয় হতো, এর মধ্যে নিজের জন্য খরচের টাকা রেখে বাকিটা পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিতেন তিনি। তিন বছর ধরে ওই দোকানে কাজ করতেন শিহাব।
গত শুক্রবার দুপুরের খাবার খেয়ে দোকানে যাওয়ার পথে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শিহাব। এতে তার পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন তিনি।
জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে তার বাবা শাহ আলম হাওলাদার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কাঁধে আঘাত পান। এতে তিনি আর ভারী কোনো কাজ করতে পারতেন না। এক মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে আর্থিক টানাপোড়েনের সংসারে হাল ধরতে বাধ্য হন স্ত্রী নাছিমা বেগম। সেলাইয়ের কাজ করে কোনোমতো চলত সংসার। এ অবস্থা দেখে মায়ের সঙ্গে হাল ধরেন তাদের একমাত্র সন্তান হৃদয় আহমেদ (শিহাব)। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ফুপাতো ভাই মনির মোল্লার হাসান ‘স্টিল অ্যান্ড ফার্নিচার’ দোকানে তাকে কাজে পাঠানো হয়েছিল।
গত শুক্রবার রাতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সন্যাসীর চর ইউনিয়নের রাজারচর আজগর হাওলাদারকান্দি গ্রামে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে গত শনিবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
শিহাবের এমন মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার মা–বাবা। সন্তানের কথা মনে করে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নাছিমা বেগম। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে আর্তনাদ করে কাঁদছে বোন। পরিবারটির এমন অবস্থা দেখে শোকাচ্ছন্ন স্বজন-প্রতিবেশীরাও।
ঘটনার প্রসঙ্গে শিহাবের ফুপাতো ভাই মনির মোল্লা বলেন, ‘শিহাব আমার দোকানে কাজ করত। ওই দিন শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আমার বোনের বাসায় দুপুরের খাবার খেতে যায় সে। খেয়ে লিংক রোডে কারখানায় ফেরার সময় সে গুলিবিদ্ধ হয়। বুকের এক পাশ থেকে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা পায়নি। ভর্তি করতে চায়নি কোনো হাসপাতাল! পরে বনশ্রী এলাকার নাগরিক স্পেশালাইজড প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিহাবকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তার। চোখের সামনে ভাইডা মরে গেল, কিচ্ছু করতে পারলাম না।’
শিহাবকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি জানিয়ে তার চাচা সাহাবুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের পরিবারে একমাত্র ছেলেসন্তান ছিল শিহাব। ওর মৃত্যুতে পুরো পরিবার আমরা শোকাহত। কোনো কিছু বলার ভাষা নাই।’
শিহাবের মা নাছিমা বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমার পোলাডা তো কোনো আন্দোলন করে নাই; ওরে কেন গুলি কইরা মারল? আমার একমাত্র পোলারে ক্যান মরতে হইল? আমি এখন কি নিয়া বাঁচমু? আমার পোলার কাছে তোমরা আমারে নিয়া যাও।’
শিহাবের মৃত্যুর বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিয়েছি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’
এইচএসসির আরও চার পরীক্ষা স্থগিত
ট্রেন চলাচলের বিষয়ে যা জানাল রেলের ডিজি
ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা জাকি ভাঙচুর মামলার আসামি