কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে। ফলে দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সারকারখানার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও রেশনিং করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ৯৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে গতকাল সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৩১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। যা এই কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন সিইউএফএল ও কাফকো দুটি সারকারখানাই বন্ধ রয়েছে। এই দুই ইউরিয়া সারকারখানায় প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
পরিস্থিতির কথা জানিয়ে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তবে কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময় জানানো হয়নি।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আরএলএনজি সরবরাহ চলছিল। তবে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মহেশখালীতে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর পরপরই টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গতকাল বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আরপিজিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট আরএলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে কবে সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এক্সিলারেট আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইলে কারিগরি ত্রুটির কারণ এবং সরবরাহ পুনরায় চালুর সম্ভাব্য সময় না জানানো পর্যন্ত আমাদেরও কিছু বলার সুযোগ নেই।’
পেট্রোবাংলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তারা আমাদের জানিয়েছে, আজ (মঙ্গলবার) রাতের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, ভোররাতের দিকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।’
আরপিজিসিএলের এলএনজি শাখার জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি যান্ত্রিক সমস্যা। মেশিনে এমন ত্রুটি হতেই পারে। বর্তমানে পরিদর্শনের কাজ চলছে।’ তবে কখন টার্মিনালটি চালু হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময় জানাতে পারেননি।
সোমবার আরএলএনজি সরবরাহ করা হয়েছিল ৯৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আগের দিনের তুলনায় সরবরাহ কমেছে ৪০৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা প্রায় ৪২ শতাংশ।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থাতেই দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ৪০৬ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এর প্রভাব তুলনামূলক কম পড়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. রইস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আপস্ট্রিমে থাকায় চট্টগ্রামে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ঢাকায় গ্যাসের চাপ কমে যেতে পারে।’ তিনি জানান, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য কয়েকটি সারকারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।