সব পণ্যের ডেমারেজ চার্জ মওকুফ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০১:১২ এএম

শুধু পোশাক নয়, এবার সব ধরনের আমদানি পণ্যের স্টোররেন্ট বা ডেমারেজ চার্জ মওকুফ হয়েছে। গত ১৬ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে যত পণ্য আসবে সেগুলো এমন সুবিধা পাবে। তবে এসব পণ্য অবশ্যই আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি নিতে হবে। অন্যথায় ডেমারেজ চার্জ মওকুফের সুবিধা পাওয়া যাবে না। গতকাল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে স্টোর রেন্ট মওকুফের আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩০ জুলাই শুধুমাত্র বিজিএমইএ’র পণ্যের জন্য স্টোররেন্ট বা ডেমারেজ চার্জ মওকুফের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে বিজিএমইএ’র প্রায় ১০ কোটি টাকার মাশুল মওকুফ হয়।

গতকালের আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি দেশব্যাপী সহিংসতার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের মালামাল খালাসে স্থবিরতা নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে এফবিসিসিআই থেকে প্রাপ্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি-রপ্তানিকৃত যেসব চালান গত ১৬ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে, সেসব পণ্যের খালাসের ক্ষেত্রে সাত দিনের স্টোররেন্ট মওকুফ করা হলো।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার নামানোর পর থেকে পরবর্তী চার দিনের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য ডেলিভারি নিলে কোনো ফি দিতে হয় না। কিন্তু চারদিনের পর থেকে ২০ ফুটের কনটেইনারের ক্ষেত্রে প্রথম সাত দিনের প্রতি দিনের জন্য ৬ মার্কিন ডলার করে মাশুল গুনতে হবে। পরবর্তী সাত দিন ১২ মার্কিন ডলার ও পরবর্তী সাত দিন ২৪ মার্কিন ডলার করে মাশুল গুনতে হয়। আবার ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে প্রথম সাতদিনের প্রতিদিনের জন্য ১২ মার্কিন ডলার, পরবর্তী সাত দিন ২৪ মার্কিন ডলার ও তৃতীয় সাত দিনের প্রতিদিনের জন্য ৪৮ মার্কিন ডলার করে জরিমানা গুনতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে ৫৩ হাজার একক কনটেইনার রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৪১ হাজার একক কনটেইনার রয়েছে।

কারফিউর পাশাপাশি গত ১৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইন্টারনেট সার্ভিসও বন্ধ হয়ে যায়। এই সময়ে বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড (পণ্যের আমদানি-রপ্তানির আধুনিক শুল্কায়ন পদ্ধতির আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার)। যদিও ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে কিছু কাজ হয়েছে তারপরও কার্যত বন্ধ ছিল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ২৪ জুলাই থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হওয়ার পর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা আসে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯৩ ভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত