কারফিউ অমান্য করে মধ্যরাতে শোক দিবসের অনুষ্ঠান

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৫২ এএম

কারফিউ অমান্য করে শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। বুধবার রাত ১২টার দিকে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্তের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। দেওয়া হয় সেøাগানও। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। এতে কারফিউ অমান্যে সমালোচনা উঠেছে। তবে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেই এসব করা হয়েছে বলে দাবি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সীমান্তের নেতৃত্বে রাত ১২টার এই কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের বেশকিছু নেতাকর্মী। কর্মসূচি পালনের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে এ-সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সীমান্তসহ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা আগস্টের প্রথম প্রহরে কর্মসূচি পালন করেছি। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে কোনো হট্টগোল ছাড়া মোমবাতি প্রজ্বালন করেছি। এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। তাছাড়া মৌখিকভাবে পুলিশকে অবহিত করেই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া কেবল পুলিশকে অবহিত করে কারফিউ চলাকালে সমাবেশ করা যায় কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম সিফাত জানান, প্রতি বছর আমরা রাত ১২টাতেই পালন করে থাকি। কিন্তু এবার কারফিউর কারণে সময় চেঞ্জ করা হয়েছে। কিন্তু আসলেই কারফিউ অমান্য করে রাত ১২টায় কর্মসূচি পালন করেছে কি না, সেটি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

জেলা প্রশাসনের কারফিউ আদেশ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি পাবনায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি রয়েছে। এদিনও একই আদেশ জারি ছিল।

কারফিউ আইন বলছে, বাংলাদেশে বিশেষ ক্ষমতা আইন; ১৯৭৪ সালের ২৪ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে আদেশ জারির মাধ্যমে নির্দেশ করতে পারেন। যেকোনো বিশেষ লিখিত অনুমতি ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। এই আইন লঙ্ঘন করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাবনা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান তার কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত