দীর্ঘ প্রস্তুতির সুফল মিলবে টেস্টে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ১০:২৮ পিএম

টেস্ট ম্যাচে বড় চ্যালেঞ্জ দিনে ৬ ঘণ্টা মাঠে থাকা এবং মনোসংযোগ ধরে রাখা। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ টাইগার্সের অনুশীলন পর্বে এ ব্যাপারটার দিকেই জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোচ সোহেল ইসলাম। প্রায় মাস দুয়েকের এই প্রস্তুতি পর্বে ছিলেন বাংলাদেশ টাইগার্স, বিসিবির হাই পারফরম্যান্স দলের ক্রিকেটাররা; শেষ দিকে যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও।

কয়েকটি প্রজন্মের ক্রিকেটারদের একসঙ্গে অনুশীলন করানোর ফলে তাদের ভেতর বেড়েছে ভ্রাতৃত্ববোধ, হয়েছে অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান সদ্য সমাপ্ত ক্যাম্পের এটাই অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন সোহেল।

পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ ও টেস্ট দল।  বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটো ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ‘এ’ দল খেলবে দুটো চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের বড় একটা দল মাসজুড়ে খেলবে পাকিস্তানের তিনটি শহরে। এরই মধ্যে ঘোষণা করা হয়ে গেছে চার দিনের ম্যাচের দুটো এবং ওয়ানডে ম্যাচের দল।

এই দলগুলোর বেশিরভাগ ক্রিকেটারকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে সোহেলের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বললেন, ‘ক্যাম্পটা অনেক দিন চলেছে, প্রায় দুই মাস। এর মধ্যে এইচপির ক্রিকেটাররাও আসছে। টাইগার্সের ক্রিকেটার, সাদা বল, লাল বল...সবকিছু মিলিয়েই ছিল। ছেলেরা যখন টেস্ট খেলবে, তখন বোঝা যাবে প্রস্তুতি কেমন হয়েছে। তবে আমাদের যেভাবে পরিকল্পনা ছিল, তাতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর শেষের সপ্তাহে বৃষ্টির বাধা এই দুটো না থাকলে বলা যেত যে ভালোভাবেই শেষ হয়েছে। ক্রিকেটারদের প্রতিক্রিয়া ভালো ছিল। এই প্রথম আমার মনে হয়েছে লাল বলে খেলা ক্রিকেটাররা কোনো সফরে যাওয়ার আগে শারীরিক এবং মানসিকভাবে লম্বা সময় ধরে প্রস্তুত হলো। সাদা বল থেকে লাল বলে আসার মানসিক যে পরিবর্তনটা, সেটা আনার সুযোগ পাচ্ছে।’

মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হকদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও অংশ নিয়েছিলেন প্রস্তুতি পর্বে, খেলেছেন প্রস্তুতি ম্যাচেও। সোহেল মনে করেন, তাদের প্রস্তুতিটাও হয়েছে ভালো (মুশফিক ও মুমিনুল)। শুধু স্কিল ট্রেনিং না, ফিটনেস ট্রেনিংও ছিল। এরা ভালো শেপে আছে। যারা পরের ধাপে যোগ দিয়েছেন যেমন লিটন (দাস), সৌম্য (সরকার), তাদের একটু সময় লাগত। যেহেতু ঢাকায় তারা আরও কিছুদিন অনুশীলন করবে এবং নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে, আমার কাছে মনে হয় সবকিছু মিলিয়ে প্রস্তুতি বেশ ভালো।’

সোহেল ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপিএল দল রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দল শেখ জামাল ধানমন্ডির কোচ। এ ছাড়া জাতীয় দলে বিভিন্ন সময়ে স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে লম্বা সময়ের জন্য অনেক ক্রিকেটারকে নিয়ে ক্যাম্প পরিচালনার অভিজ্ঞতাটা তার কাছেও ছিল চ্যালেঞ্জিং, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল...আবহাওয়া কিন্তু সব সময় যেমনটা আশা করব, সে রকম হবে না। অনুশীলন সেশনের ভারিক্কি এবং তীব্রতাটা ধরে রাখাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। মানসম্পন্ন অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে, আবহাওয়া যা-ই হোক না কেন। আমি আগে থেকেই অনেকগুলো পরিকল্পনা করে যেতাম যে এটা না হলে ওটা করব। খেলোয়াড়রা যেন অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে। আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল যে টেস্ট ম্যাচ যেহেতু পাঁচ দিনের, প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে থাকতে হয়। আমাদের পরিকল্পনা ছিল খেলোয়াড়দের সেভাবেই তৈরি করা। অনুশীলনটা লম্বা হয়। আবার একই সঙ্গে মানসম্মত হয়, এটাই ছিল পরিকল্পনা। খেলোয়াড়দের ওই চ্যালেঞ্জটা দেওয়া। কারণ সেটা যদি না দেওয়া যায়, তাহলে এই ক্যাম্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। লম্বা সময় ধরে চললেও এই ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততা খুব ভালো ছিল, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের থেকে শুরু করে সদ্য বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়, সবার মধ্যেই সেটা ছিল।’

সোহেলের কাছে ভালো লেগেছে খেলোয়াড়দের ভেতর পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। অভিজ্ঞ মুশফিক থেকে শুরু করে সদ্য কৈশোর পেরোনো জিশান আলমরা একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন অভিজ্ঞতা, ‘আগে কিন্তু এইচপি দলের সঙ্গে হয়তো জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলত, এবার কিন্তু দলগুলো মিলেমিশে করা হয়েছে। এতে তরুণ ক্রিকেটাররা অনেক উপকৃত হয়েছে। হোটেলে একসঙ্গে লম্বা সময় থাকায় তাদের মধ্যে বন্ধন অনেক গাঢ় হয়েছে।’

দেশের কোচদের অধীনে বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্পের পর জাতীয় দলের কোচদের অধীনে শনিবার থেকে শুরু হবে অনুশীলন। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দেশে ফিরেছেন, মুশতাক আহমেদেরও চলে আসার কথা শুক্রবারের মধ্যেই আর শনিবার যোগ দেবেন ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প।

জাতীয় দলের প্রস্তুতি পর্বের আগে শনিবার সকালেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়ন। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফীস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে ২০-২২ জন ক্রিকেটারের শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়ন করা হবে।’

এই বছরের ২০ এপ্রিলও ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়ন করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে, যার সুবাদে অনেক ক্রিকেটারেরই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্রে পা পড়েছিল প্রথমবারের মতো। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ক্রিকেটাররা ৪০ মিটার স্প্রিন্ট ও ১৬০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত