প্রধানমন্ত্রী মনে করলে পদত্যাগে রাজি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৪ জেলায় কারফিউ শিথিল ১৫ ঘণ্টা

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০২:৩৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী মনে করলে পদত্যাগ করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল শনিবার রাতে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি আন্দোলনকারীদের পদত্যাগের দাবি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজন হলে যদি এ রকম কোনো সিচুয়েশন আসে, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন... আমরা সবসময় দেশের জন্য কাজ করি, আমরা সেটা (পদত্যাগ) করব।’

তিনি বলেন, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আজ রবিবার ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল থাকবে। এ চার জেলা ছাড়া অন্য জেলায় জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) কারফিউ শিথিল বা বলবৎ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে গত ১৯ জুলাই রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর ক্রমে বাড়ে কারফিউ শিথিলের সময়। সর্বশেষ গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ঢাকাসহ চার জেলায় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ ঘণ্টা কারফিউ শিথিল ছিল। এ চার দিন কারফিউ বলবৎ ছিল রাত ৮টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপি সবসময় ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল। শুরু থেকেই তারা দেশকে অকার্যকর করতে চেয়েছিল। যে কারণে ছাত্রদের কাছে আহ্বান, তারা যাতে লেখাপড়ায় ফিরে যান। কারণ তাদের সব দাবি পূরণ করা হয়েছে। এরপরও যদি তাদের কোনো দাবি থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরজা সবসময় খোলা আছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন চলছে শোকের মাস। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস। মাসটিকে শোকের মাস হিসেবে পালন করি। বঙ্গবন্ধু শাহাদাতবরণ করার পর থেকে এটা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কারোর আন্দোলন নস্যাৎ করতে চাই না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় ৩২ জন শিশু মারা যায়নি। ১৮ বছর হলে শিশু হয় না। তারা যুবক হয়ে যান। তবে কয়েকজন শিশু মারা গেছে। ঢালাওভাবে যেভাবে বলা হচ্ছে তা সঠিক না। যারা মারা গেছেন তাদের শরীর থেকে যেসব গুলি উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্য সবগুলো কিন্তু পুলিশের গুলি না। তারপরও আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করছি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেন এক দফা দাবি করেছে, তাদের তো এই দাবি ছিল না। এই থেকে বোঝা যায় তাদের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষার্থীদের জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। তবে যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। এক শিক্ষার্থী মাতুয়াইলে পুলিশের এক সদস্যকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় জড়িত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত