কোনোকিছুই আগে থেকে নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা নারী জিমন্যাস্ট সিমোন বাইলস। এবারের প্যারিস অলিম্পিকের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র দল এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজে যখন অল-অ্যারাউন্ড ও ভল্টে স্বর্ণ জেতেন তখন কেউ অবাক হননি। বাইলস, লি, চাইলস ও ক্যারেরা যতখানি পেরেছেন জিমন্যাস্টিক থেকে দেশকে সফলতা এনে দিয়েছেন। দলীয় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে ১৭টি সম্ভাব্য স্বর্ণের মধ্যে ১১টি এনে দিয়েছেন তারা সবাই। তবে সোমবার ব্যালেন্স বিম ইভেন্টে পেরে ওঠেননি বাইলস। তাকে টপকে ইতালির এলিস ডি’আমাতো জিতেছেন স্বর্ণ।
জিমন্যাস্ট এমনই একটি ইভেন্ট যেখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এক ইঞ্চি এদিকওদিক হলেই ফল হয়ে যায় ভিন্ন। জিমন্যাস্টদের প্রতিনিয়ত নিজের সেরাটা দিতে হয়। হতে হয় একেবারে নিখুঁত। আর এখানেই এ ইভেন্ট থেকে স্বর্ণ ফসকে গেছে সিমোন বাইলসের। এবারের অলিম্পিকে তিনটি স্বর্ণপদক জেতা বাইলস ব্যালান্স বিম থেকে পরে যান একবার। আরেকবার ব্যর্থ হন লাফ দিয়ে ঠিকমতো ল্যান্ডিং করতে। ফলস্বরূপ স্কোরিংয়ে তার প্রভাব পড়ে। ১৩.১০০ স্কোর নিয়ে সেরা তিনে থাকতে হন ব্যর্থ। পঞ্চম হয়ে শেষ করেন ব্যালেন্স বিম ইভেন্ট। টোকিওতে এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাইলস।
আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসের এ ইভেন্টটিতে সর্বোচ্চ স্কোর করেন এলিস ডি’আমাতো। ১৪.৩৬৬ স্কোর করে নারীদের জিমন্যাস্টিকসে ইতালিকে প্রথম স্বর্ণ এনে দেন এলিস। ১৪.১০০ স্কোর করে রৌপ্য জিতেছেন চীনের ঝু ইয়াকিন। ইতালির মানোলো এসপোসিতো ১৪.০০০ স্কোর নিয়ে জেতেন ব্রোঞ্জ।
এই ঘটনার ঘন্টাদুয়েক পরে ফ্লোর এক্সারসাইজ ইভেন্টে নামেন সিমোন বাইলস। এ ইভেন্টে তার সঙ্গে ছিলেন ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি জিমন্যাস্ট রেবেকা আনদ্রাদে। তবে নিজের সব অপ্রাপ্তি তিনি এদিন পুষিয়ে দেন বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বাইলসের চেয়ে উচু পোডিয়ামটিতে দাঁড়িয়ে।
১৪.১৬৬ স্কোর করে ফ্লোর এক্সারসাইজ ইভেন্টটির স্বর্ণপদক নিজের করে নেন রেবেকা। বাইলস অবশ্য খালি হাতে ফেরেননি। ১৪.১৩৩ স্কোর করে এ ইভেন্ট থেকে রৌপ্য জিতেছেন তিনি। তার স্বদেশি জর্ডান চাইলস ১৩.৭৬৬ স্কোর করে পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।
বিশ্বের দ্রুততম মানব নোয়াহ লাইলস