টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা (মার্গারেট কোর্টের সঙ্গে যৌথ) নোভাক জকোভিচের। বাকি ছিল শুধু অলিম্পিক স্বর্ণ। রবিবার প্যারিস অলিম্পিকের ফাইনালে জকোভিচ ৭-৬, ৭-৬ গেমে কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে পূরণ করেছেন গোল্ডেন স্ল্যাম (চার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও অলিম্পিক স্বর্ণ)। গোল্ডেন স্ল্যাম জেতা পঞ্চম খেলোয়াড় হলেন জকোভিচ।
দ্বিতীয় সেটে টাইব্রেকারে শেষ পয়েন্টটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে বসে পড়েন জকোভিচ। তার চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। পঞ্চমবার অলিম্পিকে অংশ নিয়ে সফলতা পেলেন সার্বিয়ান এই কিংবদন্তি। এর আগে চারবার অলিম্পিকে অংশ নিয়ে (২২০৮) ব্রোঞ্জ পদক জেতেন তিনি।
জয়ের পর জকোভিচ বলেন, ‘২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যখন দেশের পতাকা বহন করেছিলাম, মনে হয়েছিল অ্যাথলেট হিসেবে সেটিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত। দেশের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি আজ স্বর্ণ জয়ের পর এখন এই দিনটি আমার সবচেয়ে বেশি সেরা।’
টেনিসের চার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ও আরও অনেক টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে জকোভিচের। সব ছাপিয়ে অলিম্পিকের স্বর্ণই তার কাছে সেরা। কেন সেরা সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘অলিম্পিকে অনেক সময় অনেকে খেলেন না এটাও ঠিক। প্রতি বছরই চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম হয় আর চার বছর পর অলিম্পিক। গ্র্যান্ড স্ল্যামগুলো ব্যক্তিগত আর অলিম্পিক, ডেভিস কাপ দেশের হয়ে খেলা। আমি সব সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পছন্দ করি।’
চলতি বছর এর আগে উইম্বলডন ফাইনালে আলকারাজের কাছে হেরেছিলেন জকোভিচ। অলিম্পিকে টেনিস হয়েছে রোঁলা গারোতে। যে কোর্টে সবশেষ ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী আলকারাজ। জকোভিচ ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইনজুরির কারণে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
জকো জানালেন ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন তাকে অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছে। ‘আমার বয়স এখন ৩৭। আমি নিজেই এখন নিজের প্রেরণা। ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন আমাকে অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করেছে। আমি জানতাম আজ (রবিবার) না হলে আর হয়তো আমার স্বর্ণ জেতা হবে না। এজন্য সব কিছুই করেছি সর্বোচ্চভাবে। আমার সব সফলতার পেছনে রয়েছ অনেক পরিশ্রম ও সাধনা।’
প্রতিপক্ষ আলকারাজের প্রশংসাও করেছেন জকো, ‘সে (আলকারাজ) এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। ফর্মে আছেন। দ্বিতীয় সেটে আমি যদি হেরে যেতাম, জানি না তৃতীয় সেটে কী হতো।’
অলিম্পিক পদক কোন জায়গায় রাখবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জকোভিচ ফের বলেন, ‘এটার উত্তর শুরুতেই দিয়েছি, আবারও দিচ্ছি। আমার কাছে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক সব কিছুর ওপরে।’
