বরগুনায় হস্তান্তরের আগেই আশ্রয়ণকেন্দ্রে ফাটল

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০১:৪৬ এএম

বরগুনার তালতলীতে হস্তান্তরের আগেই নবনির্মিত মুজিব কিল্লা ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করায় এমন ফাটল দেখা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

জানা যায়, বরগুনার তালতলী উপজেলার তামাতুটিলায় আপৎকালীন আশ্রয়ণকেন্দ্র হিসেবে মুজিব কিল্লা নির্মাণের জন্য ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যাদেশ পান পটুয়াখালীর সোনালী ট্রেডার্সের মালিক সঞ্জয় কুমার কর্মকার। ওই অর্থবছরের ভেতরে নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে তা হয়নি। তবে হস্তান্তরের আগেই গত ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবরে ভবনটি উদ্বোধন হয়েছে এমন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন ঠিকাদার।

এরপর গত বছরের আগস্টের দিকে নবনির্মিত মুজিব কিল্লা ভবনের ভেতর ও বাইরের দেয়ালের ফাটলগুলো স্থানীয়দের নজরে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে ভবন হস্তান্তর ও উদ্বোধন বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে ফাইনাল বিল আটকে দেন ইউএনও। এরপর সিমেন্টের আস্তরণ দিয়ে ফাটল ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু ফের ওই ভবনে ফাটল দেখে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘মুজিব কিল্লার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। আমি একাধিকবার তাদের বলতে গেলে তারা বলেন, উন্নয়ন কাজে বাধা দিতে আসবেন না। এমনকি চাঁদাবাজি মামলা দেওয়ারও হুমকি দেন আমাকে।’

এ বিষয়ে সোনালী ট্রেডার্সের মালিক সঞ্জয় কুমার কর্মকারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওই কিল্লা নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত রিপন নামের এক ঠিকাদার বলেন, ‘ভবনে তেমন কোনো ধরনের ফাটল ধরেনি। যতটুকু ধরেছে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে।’

মুজিব কিল্লা প্রকল্পের প্রকৌশলী মো. শামছুদ্দোহা বলেন, ‘গত বছর যেসব স্থানে ফাটল দেখা গেছে, সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। এখন যদি কোনো ফাটল দেখা যায়, তা সংস্কার না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে ফাইনাল বিল দেওয়া হবে না। সম্পূর্ণ ঠিকঠাক না থাকলে আমরা ভবনটি বুঝেও নেব না।’

ভবন নির্মাণকাজের পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল মাসুম বলেন, ‘ঠিকাদার ফাইনাল বিলের জন্য আবেদন করেছেন। আমরা ভবনটি পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে ফাটল আছে, সেগুলো সংস্কার করলে বিল ছাড় করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার টুম্পা বলেন, ‘মুজিব কিল্লা ভবনটি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলো ঠিক না করলে ফাইনাল বিল দেওয়া হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত