সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

ছাত্রদের ঘোষিত সরকারপ্রধানের প্রতি আস্থা আছে

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০৩:০৬ এএম

শিক্ষার্থীদের ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের প্রতি বিএনপির আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। তাদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মবোধ করেছি, করছি। তবে সর্বদলীয় ব্যাপারটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে চান, আপনারা সমর্থন করছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যখনই আমাদের কাছে প্রস্তাব দেবেন নামের জন্য আমরা তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাব। সংবিধান অনুযায়ী এখন রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সব ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার এখন তার। সুতরাং যখন রাষ্ট্রপতি আমাদের ডাকবেন তখনই আমাদের যেটা নামের প্রস্তাব আমরা দেব।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নির্দলীয় সরকার গঠনের কাজ সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান জানাচ্ছি কালবিলম্ব না করে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন। অন্যথায় দেশে আবার রাজনৈতিক শূন্যতা দেখা দিতে পারে।’

আপনারা কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থির করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক জবাব দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাডাম বলেছেন, সবাইকে শান্ত হতে বলো। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি যেন না হয়, যাতে কেউ অর্জিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তিনি জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।’

খালেদা জিয়া কবে নাগাদ জনসমক্ষে আসবেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ম্যাডাম খুব অসুস্থ। আমি গতকাল (সোমবার) রাতে দেখা করেছি। সুতরাং যখনই তিনি সুস্থ বোধ করবেন তখন তিনি জনগণের সামনে উপস্থিত হবেন।’

স্বৈরশাসকের পতনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুভেচ্ছা জানাচ্ছি একটি গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যাশায় এবং একই সঙ্গে আপনাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতার জন্য কাজ করেছেন। দুঃখ প্রকাশ করছি এ বিজয়ের পর কিছুসংখ্যক দুষ্কৃতকারী তারা কয়েকটি টিভি সেন্টারে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করেছে। এটা মুক্ত স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গভীরভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই ছাত্র ও জনতাকে। যারা ১৫-১৬ বছর গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। অভিবাদন জানাতে চাই ছাত্রদের, আমাদের সন্তানদের, যারা এ ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিয়ে ছাত্র-জনতা বিজয় অর্জন করেছেন। সব রাজনৈতিক দল, সব ব্যক্তি, পেশাজীবী যারা এ সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত ছিলেন আছেন, তাদের সবার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিজয় অর্জন হয়েছে। কিন্তু আরও বড় দায়িত্ব রয়েছে।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে বার্তা পৌঁছাতে চাই যে, এখানে হিংসা, প্রতিশোধ গ্রহণের কোনো স্থান নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ অর্জিত স্বাধীনতাকে সুসংহত করতে হবে। অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, বাড়িঘরে হামলা করা এই মুহূর্তে বন্ধ করুন। যারা এটা করছেন তারা কেউ আন্দোলনের লোক নয়। আমার দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করব, তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একটা ঠান্ডা অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যবস্থা করো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাহুমুক্ত হয়েছি, ফ্যাসিবাদের মূল হোতাদের জনগণ সরিয়েছে, বিতাড়িত করেছে। রাষ্ট্রপতি অঙ্গীকার করেছেন, যেহেতু শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে পালিয়ে গেছে সেহেতু হাসিনার কেবিনেট পুরোপুরিভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। বিনা ভোটের সংসদের কোনো কার্যকারিতা নেই। আর অন্তর্বর্তীকালীন বলেন, নিরপেক্ষ সরকার বলেন, সেটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।’

তারেক রহমান কবে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) যখনই মনে করবেন, তিনি আসতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছি, দ্রুত চলে আসেন। সেই ব্যবস্থা হবে ইনশাহআল্লাহ।’

সংবাদ সম্মেলন গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আন্দোলনে হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করেছেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ^র চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কার্যালয়ের দোতলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন ড. আবদুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত