চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকা খানখানাবাদবাসীর দুঃখ কদমরসুলের ভাঙন। এই ভাঙন ঠেকাতে বারবার জিও ব্যাগ ফেলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। কদমরসুল এলাকার প্রায় ১০০ মিটার জায়গা বারবার ভাঙনের কবলে পড়ছে। ভাঙনের ফলে সৃষ্ট বন্যার কবলে পড়ে বিপাকে রয়েছেন এলাকার ৪ হাজার বাসিন্দা।
খানখানাবাদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কদমরসুল এলাকার ১০০ মিটার জায়গা বারবার ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তা সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে সরকারি টাকা। এখন ভাঙন পুরোপুরি রোধ করতে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’
খানখানাবাদের কদমরসুল এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড কদমরসুল এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের খানখানাবাদ এলাকায় বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘুম হারাম হয়ে যায়। জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ভেসে যায়।’
সাগর পাড়ে বেড়াতে আসা নুরুল ইলাম বলেন, ‘বছর যায় বছর আসে, কিন্তু আমাদের দুঃখ শেষ হয় না। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই এলাকার জনগণ নির্ঘুম রাত পার করে। কদমরসুল এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে বারবার বরাদ্দ হয়। তাতে কিছু লোকের পকেট ভারী হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। বিগত দিনে বেড়িবাঁধ উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার কাজ হলেও ভাঙন রোধ করা যায়নি। সঠিক তদারকি না করায় এখন সব ব্লকগুলো খসে পড়ে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।’
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খানখানাবাদের কদমরসুল এলাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি। তিন মাস আগে শুরু করা কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে বেড়িবাঁধে সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও পাউবো কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন না। তাই ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছেমতো কাজ চালিয়ে যান। এতে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় তা টেকসই হয় না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, ‘খানখানাবাদের বেড়িবাঁধ সংস্কারে যে কাজ চলমান রয়েছে, তা এখনো শেষ হয়নি। তবে বরাদ্দ কত টাকা আর কি পরিমাণ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
