“আমার আব্বু কোথায়, আমি আমার আব্বুর কাছে যাব, আমার আব্বুকে এনে দাও, কাকে আব্বু বলে ডাকব, ওরা আমার আব্বুকে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার আব্বুকে কেন মারল-এসব কথা বলে বাবার ছবি হাতে নিয়ে হাউমাউ করে কান্না ভেঙে পড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশা রুবেল ছয় বছরের শিশু কন্যা নৌফার।
তার আহাজারিতে আশপাশে থাকা মানুষের চোখও ভিজে ছলছল করছিল। বাবার জন্য নৌফার এমন আকুতিতে কাঁদছেন সবাই। জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে থাকেন অনেকেই। তবুও নৌফার এমন আকুতি যেন থামছিল না।
রবিবার (৪ আগস্ট) কুমিল্লার দেবিদ্বারে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হয় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশা রুবেল। তিনি পৌরসভা বারেরা গ্রামের মৃত. রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বাসচালক ছিলেন।
জানা যায়, স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হেপি আক্তার। কিছুক্ষণ পরপর চিৎকার দিয়ে কান্না করেন। আগত প্রতিবেশীদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কাউকে পেলেই কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘তোমরা আমার স্বামীকে এনে দাও, আমার পেটে ৯ মাসের বাচ্চা। আমি তাকে কী জবাব দেব।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে নিস্তঃব্ধ হয়ে গেছেন বৃদ্ধা মা হোসেনে আরা বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার বুকের ধনকে কাইড়া নিল। আমার বুকের মানিককে ফিরিয়ে দেন। আমি জড়িয়ে ধরব, আমার একমাত্র ছেলের বুকে কোন পাষণ্ড গুলি করল। আমার নাতিনকে এতিম করল। আমাকে মা বলে ডাকবে কে?
নিহতের চাচা আব্দুস সাত্তার বলেন, “রুবেলের সংসারটি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল। তার স্ত্রী ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার ছয় বছরের একটি মেয়ে আছে। বাস চালিয়ে কোনোরকম সংসার চালাচ্ছিল। বর্তমানে সংসারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। যারা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার দাবি জানাই।”
নিহত বড় বোন লাভলী আক্তার বলেন, “সংঘর্ষের আগের দিন রাতে আমার ভাই বাস রেখে বাড়িতে আসছে। সকালে কে যেন একটি ফোন করছে, ফোন পাওয়ার পর ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর দুপুরে শুনি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন আমার ভাইকে গুলি করে রাস্তায় ফেলে রেখেছে। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার করছি।”
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এএফএম তারেক মুন্সি বলেন, “রুবেল দলের জন্য অত্যন্ত নিবেদিত একজন মানুষ ছিলেন। তাকে যারা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে এর বিচার একদিন দেবিদ্বারের মাটিতে হবে ইনশাআল্লাহ। আমি ব্যক্তিগতভাবে রুবেলের পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি।”
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিগার সুলতানা বলেন, “জেলা প্রশাসক নিহত রুবেলের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি রুবেলের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তাকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাব।”
