আওয়ামী লীগ নেতাদের পলায়ন ঠেকাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিশেষ টিম

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৭:৪৮ পিএম

আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বিদেশ পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। এসব নেতাদের দেখলেই চিনবেন এমন ব্যক্তিদের দিয়ে এই টিম গঠন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তসলিম আহমেদ জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর চট্টগ্রামের বাসিন্দা এমন কিছু আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা দেশত্যাগ করতে পারেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবে যাওয়ার পথে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ ও মাঝারি পর্যায়ের নেতারা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ পালানোর সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই সাবেক সরকারের প্রভাবশালী দু’জনন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন।’

বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং নগর আওয়ামী-যুবলীগের একাধিক শীর্ষ ও মাঝারি পর্যায়ের নেতাদের একটি তালিকা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। ওই তালিকায় থাকা নেতাদের কেউ বিমানবন্দরে গেলেই তাকে আটক করা হবে।

গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর গ্রেপ্তার-আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক প্রভাবশালী  নেতা। পাশাপাশি তাদের কাছের অনুসারীরাও গা ঢাকা দিয়েছেন। অনেকেই বন্ধ রেখেছেন মোবাইল ফোন।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং সিটি মেয়র রেজাউল করিমও গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বন্ধ পাওয়া গেছে তাদের মোবাইল ফোনও। এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে নগর যুবলীগের একাধিক নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। 

এর মধ্যে যুবলীগ নেতা ও এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ইতিমধ্যেই দেশত্যাগ করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। হেলালের ওই বন্ধু জানান, গতকাল শুক্রবার বিদেশি একটি নম্বর থেকে তার কাছে ফোন করে দেশের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে চান বাবর। 

আত্মগোপনে থাকা নগর যুবলীগের পদধারী যেসব নেতার নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর মোস্তফা ওরফে টিনু, লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত  বেলাল, ১৩ নম্বর পাহাড়তলীর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসরারুল হক।

এছাড়া আছে লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, ২০১৩ সালে সিআরবিতে জোড়া খুনের মামলার আসামি ও যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাঁতী ওরফে কে সি তাঁতী, নগরের পাঠানটুলি এলাকার সন্ত্রাসী ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল আলম লিমন এবং জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিল শৈবাল দাশ সুমন।

জানা গেছে, দেশত্যাগের সময় গত ৯ আগস্ট রাত পৌনে ১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও  কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নুরুল আজিম রনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার ওপরে হামলার ঘটনায় তার নাম সামনে আসে। রনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে বুধবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজকে আটক করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা। ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তসলিম আহমেদ। তিনি বলেন, আটক করে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিউমার্কেট চত্বরে সংঘর্ষে আহত হন আজিজুর রহমান আজিজ।

সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, সবশেষ ২০২১ সালে নগরের ৩২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা করে পুলিশ। তালিকাতে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীদের ছাড় দেওয়া হয়নি। ওই তালিকায় ৯৪ জনের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৪৩ জন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত