‘গণঅভ্যুত্থানের ফসল লুটেরা যেন ধ্বংস করতে না পারে’

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৩২ পিএম

গণঅভ্যুত্থানের ফসল লুটেরা যেন ধ্বংস করতে না পারে উল্লেখ করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা দেশব্যাপী যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মতলববাজ কোনো মহল যাতে সরকারি-বেসরকারি কোনো স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করতে না পারে সে ব্যপারে সবাইকে সতর্ক পাহারা বসাতে হবে।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে প্রজন্ম একাডেমির উদ্যোগে 'নতুন সরকারের কাছে জাতির প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রজন্ম একাডেমির সভাপতি লেখক ও গবেষক কালাম ফয়েজীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আহমেদ, অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূইয়া, আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের প্রেসিডেন্ট মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আইন ও কল্যাণ সম্পাদক ওয়াসিম সিদ্দিকী, দৈনিক খোলা বাজার পত্রিকার সম্পাদক জহুরুল ইসলাম কলিম, প্রজন্ম একাডেমির সহসভাপতি এস এম মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু হায়দার, দপ্তর সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বিশিষ্ট সমাজসেবক অ্যাড. হেলাল উদ্দিন, সাবেক ছাত্র নেতা রমিজ উদ্দিন রুমী, গুম হওয়া স্বজনদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম পলাশ, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন, গণঅধিকার উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাদ্দাম হোসেন, সংগঠনের অন্যতম নেতা নবী হোসেন, প্রফেসর ইয়াকুব আলী, অপরাজিয় বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, অ্যাড. রবিউল হোসেন রবি প্রমুখ।

সভার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহজাদা সৈয়দ ওমর ফারুক পীরসাহেব।

ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বশস্ত্র বাহিনি ও জনগণর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই নৈরাজ্য চলতে দিলে ছাত্র-জনতার বিজয় নানাদিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি জনগণকে ধৈর্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতেও উদাত্ত আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দেশে অনেক কিছু এখন সংস্কারের প্রয়োজন। সেই সংস্কার শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিলে জাতির ১৬ বছরের অভিশাপ মুক্ত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে কালাম ফয়েজী বলেন, আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়েছি। এখন প্রয়োজন দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার। যারা এই যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে হবে এবং তাদের পরিবারকে ভাতার আওতায় আনতে হবে। এই অভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন এবং সম্মুখ লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে সকল দুর্যোগ-দুঃসময়ে পাশে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের গভীর সংকটময় মুহূর্তে দেশরক্ষায় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ যারা শপথ নিলেন জাতি তাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা করে। নতুন সরকার সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দুর্নীতিমুক্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে স্বৈরাচার পতনে এবং দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে খ্যাত এই আন্দোলনে আমাদের বীর ছাত্র সমাজসহ যে বীর জনতা বীরোচিত ভূমিকা রাখেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে দেশে-বিদেশে যে যেখানে অবদান রেখেছে তাদের সকলকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে লুটেরারা এখনও তৎপর। কোনো অবস্থায় যেন তারা গণঅভ্যুত্থানের ফসল লুটেরা যেন ধ্বংস করতে না পারে এবং এই মরণপণ সংগ্রামের অগণণ বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত