অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ নিতে প্রস্তুত দুই উপদেষ্টা। অন্যজনও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে রওনা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছেন সুপ্রদীপ চাকমা ও ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক আজ রবিবার রাতে দেশে পৌঁছানোর পর সোম বা মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৭ সদস্যের মধ্যে তিনজন গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বাইরে থাকায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
শপথ গ্রহণের পরপরই প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৪ সদস্যের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়। ২৭টি মন্ত্রণালয় রাখা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার অধীনে।
তিন উপদেষ্টা কবে নাগাদ শপথ নেবেন বা নেবেন কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। যদিও শপথ গ্রহণের দিন মন্ত্রিপরিষদের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, ঢাকার বাইরে থাকায় তিন উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ করতে উপস্থিত হতে পারেননি।
এই তিন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপটে (চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জাহাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান) সাব-কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া নৌ-কমান্ডো ফারুক-ই-আজম গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আমেরিকা থেকে দেশের পথে রওনা দিয়েছি। শিডিউল অনুযায়ী আগামীকাল রবিবার (আজ) রাতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কবে শপথ নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে পৌঁছানোর পর সোমবার বা মঙ্গলবার (১২ বা ১৩ আগস্ট) শপথ নিতে পারি।’
শপথ গ্রহণের দিন রাঙ্গামাটিতে অবস্থান করছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা। কবে নাগাদ শপথ নিতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শনিবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছি এবং ঢাকায় আসার বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদের সচিবকে অবহিত করেছি।’
কিন্তু কবে শপথ নেবেন এই প্রশ্নের জবাবে সুপ্রদীপ বলেন, ‘শপথ নেওয়ার বিষয়টি আমার হাতে নয়। আমি শপথ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব যখন আমাকে ডাকবেন তখনই শপথ গ্রহণ করব।’
একই মন্তব্য করেন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শপথ গ্রহণের দিন আমি ময়মনসিংহে ছিলাম বলে আসতে পারিনি। তবে আজ (গতকাল) ঢাকায় অবস্থান করছি এবং শপথ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আমাকে যখনই ডাকা হবে, আমি তখন শপথ নিতে যাব।’
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূস শপথ গ্রহণের পরদিন শুক্রবার উপদেষ্টাদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যে উপদেষ্টারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
