নিরাপত্তা ও নগদ অর্থ সংকটে স্থবির খাতুনগঞ্জ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৪, ০১:৫৮ এএম

চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন থানায় পুলিশি কার্যক্রম চালু হলেও এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নামেনি পুলিশ। যে কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় বিরাজ করছে নিরাপত্তা সংকট। দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জেও স্থবিরতা কাটছে না এই নিরাপত্তাহীনতায়। সেই সঙ্গে সেখানে যোগ হয়েছে নগদ অর্থ সংকট।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে, সেই খাতুনগঞ্জ এখন অনেকটা স্থবির। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন ভোগ্যপণ্যের জন্য। মাঠে পুলিশের কার্যক্রম না থাকায় টাকা কিংবা পণ্য পরিবহন কোনোভাবেই নিরাপদ মনে করছেন না এসব ব্যবসায়ীরাও। যে কারণে কাটছে না খাতুনগঞ্জের স্থবিরতা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গত ১৮ জুলাই দেওয়া হয় দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এদিন থেকেই কার্যত স্থবিরতা শুরু হয় খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে সরকার কারফিউ জারি ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়। এ সময় খাতুনগঞ্জ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। গত ৫ আগস্ট সরকারের পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যার পরপরই আত্মরক্ষার্থে থানা ও মাঠ ছাড়ে পুলিশ। চট্টগ্রাম নগরীতে বেশকটি থানা ও ফাঁড়ি জ¦ালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ অনেকটা পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। সরকার ও প্রশাসনবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে দখল, বেদখল ও লুটপাটের মচ্ছব শুরু হয়। এতে সাধারণ মানুষের মতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরাও।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর থানাগুলোতে সীমিত আকারে পুলিশি কার্যক্রম চালু হলেও এখন পর্যন্ত ভীতি কাটেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। এখনো নিম্নস্তরের অনেক পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দেননি। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতিদিন যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, সেখানে পুলিশবিহীন অবস্থায় ব্যবসা করা কোনোভাবেই নিরাপদ নয় বলে মনে করেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সগীর আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, খাতুনগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা না কাটার পেছনে এই মুহূর্তে তিনটি সংকট কাজ করছে। নিরাপত্তা সংকট, নগদ অর্থ সংকট ও পরিবহন সংকট।

তিনি বলেন, খাতুনগঞ্জে এক দিনে আড়াই হাজার কোটি থেকে তিন হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেনের রেকর্ড রয়েছে। এখান থেকে পণ্য চলে যায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে এখনো পুলিশের কোনো উপস্থিতি না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ নিরাপদ মনে করছেন না।

ব্যাংক লেনদেনে সীমাবদ্ধতায় সংকট বেড়েছে উল্লেখ করে সগীর আহমদ বলেন, এখন খাতুনগঞ্জে দোকানপাট খুললেও সীমিত পর্যায়ে বেচাবিক্রি চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি হিসাব থেকে এক দিনে ২ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বড় ধরনের কেনাবেচা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া চলমান পরিস্থিতিতে কেউ পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের ঝুঁকি মনে করছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলো পরিবহন ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত