নিষিদ্ধ ফাঁদ ও জালের অপব্যবহারকে ইলিশসহ দেশীয় মাছ উৎপাদনের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, মৎস্য আহরণে নিয়োজিত ব্যক্তিরা চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকারক ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ রাখলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই দেশে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলনের উদাহরণ টেনে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘যেকোনো বড় সংকট দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। আপনারা দেখেছেন, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় যেভাবে ছাত্র-জনতা একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিল, যার মুখে ফ্যাস্টিস সরকার বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়। নদীবেষ্টিত জেলা চাঁদপুরেও ইলিশসহ সার্বিক মাছ রক্ষায় যদি আমরা সবাই একযোগে কাজ করি, তবে সরকারের সব কর্মসূচি সফল হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে জাটকা কিংবা মা ইলিশ রক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সরকারি কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা না থাকলে সুফল পাওয়া যায় না। সাধারণ জেলে থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এলে এর সুফল সবাই ভোগ করতে পারবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সিফাত খালিদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ এবং চাঁদপুর মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি এম মোস্তফা কামাল।
আলোচনা সভায় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো অনিয়ন্ত্রিত ফাঁদ বন্ধ না করা গেলে মাছের পাশাপাশি জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হবে এবং একসময় উচ্চবিত্তদের জন্যও ইলিশ কেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে মো. ইমাম হোসেন, মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনে মো. শরীফ হোসেন এবং কার্প মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদানের জন্য এই সম্মাননা পান।
এর আগে, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে এসে শেষ হয়। পরে অতিথিরা উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এতে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অংশ নেন।
বর্ষায় দেশীয় মাছ