কক্সবাজারের রামু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুল আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে ‘দফা এক দাবি এক, অধ্যক্ষের পদত্যাগ’ স্লোগান ধরে বিক্ষোভ করেন।
সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ মুজিবুল আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি, ছাত্রলীগ ও পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, সরকার পতনের পর থেকে টানা কলেজে অনুপস্থিত, অনিদিষ্টকালের জন্য ক্লাস স্থগিতের ঘোষণা এবং ৬ ঘন্টার ক্লাসের মধ্যে তিনঘণ্টা পরছুটি দেওয়াসহসহ অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি তোলেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমদাদুল হক বলেন, সম্প্রতি জেলাজুড়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে তিনি রামু কলেজে কোনো আন্দোলন করতে দেননি। ছাত্রলীগ ও পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর এই অধ্যক্ষের অপসারণ চাই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
আরেক শিক্ষার্থী সাজিব বলেন, সরকার পতনের পর থেকে অধ্যক্ষ টানা কলেজে অনুপস্থিত। আমরা প্রতিদিন খোঁজ নিয়েছি, পাইনি। এমনকি তিনি কাউকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেননি। এরই মধ্যে গত রোববার প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হলে মাত্র এক ঘণ্টা পর ছুটি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভয়ে আজ সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল শ্রেণির ক্লাস স্থগিত করে দেন।
দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ক্লাস হওয়ার কথা, গড়ে তিনঘণ্টাও হয় না। এভাবে বছর শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এসব বিষয়ে অধ্যক্ষের কোনো দায় নেই। তিনি নিজেই বেশিরভাগ সময় অনুপস্থিত থাকেন।
এদিকে সোমবার ক্লাস বন্ধ থাকায় কলেজে কোনো শিক্ষকের উপস্থিতি ছিল না। তবে অধ্যক্ষের পাশের কক্ষে ছিলেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুপ্রতীম বড়ুয়া। তিনি দাবি করেন, সোমবার তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত, প্রশংসাপত্র বিতরণ, ভর্তি বাতিল, নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জরিমানাসহ কয়েকটি খাতে বিনা রসিদে টাকা আদায়, ভুয়া প্রকল্প বানিয়ে কোটি টাকা আত্মসাত, কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম ধরে ডাকা, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সরকারিকরণের ৫ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেসরকারি নিয়মে বেতন ও অন্যান্য ফি আদায়সহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অধ্যক্ষ মুজিবুল আলমের বিরুদ্ধে।
১৬ বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ
কে হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য?