অলিম্পিকে ৬৫৭ কোটি খরচ করেও সোনা নেই ভারতের

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ১০:৫৩ এএম

অলিম্পিকে ভারতের প্রাপ্তির খাতাটা মন্দ নয়। এখন অবধি তারা পেয়েছে ১০ স্বর্ণসহ ৪১ পদকের দেখা। এবারের প্যারিস অলিম্পিকে তাই সাফল্যে পাল্লা ভারি করতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ খরচ করেছে দেশটি। সব খেলোয়াড়ের জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ হয়েছে ৪৭০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬৫৭ কোটি টাকা। ছিল বিদেশে অনুশীলনের ব্যবস্থাও । তবুও এবারের আসরে কোনো সোনা জিততে পারেনি ভারত।

প্যারিস অলিম্পিকে সব মিলিয়ে মাত্র ছটি পদক জিতেছে ভারত। দেশটির প্রথম ব্যক্তিগত সোনাজয়ী অভিনব বিন্দ্রার মতে, ‘টাকা খরচ করলেই পদক জেতা যায় না। তার জন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে পদক জয়ের খিদে থাকতে হয়।’

অলিম্পিকের সময় প্যারিসে ছিলেন বিন্দ্রা। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির অ্যাথলেটস কমিশনের সদস্য হিসেবে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাকে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, কেন ভারত এত কম পদক জিতল। তার জবাব দিয়েছেন বিন্দ্রা। তার মতে, শুধুমাত্র প্রতিভা থাকলেই অলিম্পিকে পদক জেতা যায় না।

বিন্দ্রা বলেন, অলিম্পিকে দুই রকম চাপ কাজ করে। এক হল বাইরের চাপ। দেশের মানুষ, অনুরাগীরা আপনার কাছে পদক দেখতে চান। আবার প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মনের ভিতরে একটা চাপ থাকে। সেটা নিজের প্রত্যাশার চাপ। এই দুই চাপ যে ভালভাবে সামলাতে পারবে সে পদক জিতবে। শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না। আমার তো মনে হয়, অলিম্পিকে প্রতিভার তেমন জায়গা নেই। কঠিন পরিস্থিতিতে চাপ সামলে যে সেই দিনকে নিজের করতে পারবে, সেই পদক জিততে পারবে। হাজার অনুশীলন করেও তা হয় না।’

খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে পদক জেতার খিদে না থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও পদক আসবে না বলে মনে করেন বিন্দ্রা। শুটিংয়ে সোনাজয়ী তারকা বলেন, ‘আমাদের টাকার দিকটাও দেখতে হবে। খেলোয়াড়দের সুযোগ সুবিধা দিতে টাকা খরচ করতে হবে। কিন্তু শুধু টাকা খরচ করলেই হবে না। এটা তো কোনও যন্ত্র নয় যে, বেশি টাকা খরচ করলে বেশি পদক আসবে। তার জন্য ঘাম, রক্ত, চোখের জল ঝরাতে হবে। খিদে থাকতে হবে। কোনো দেশের সরকার হয়তো খেলোয়াড়দের পদক জেতার রাস্তা কিছুটা সহজ করতে পারে। কিন্তু পদক নিজেদেরই জিততে হবে।’

ভারতের মিশন প্যারিসের জন্য খরচ করা হয়েছে মোট ৪৭০ কোটি টাকার বেশি। এবারের অলিম্পিকের বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ হয়েছে তারকা খেলোয়াড়দের জন্য। নীরাজ চোপড়ার জন্য ৫.৭২ কোটি টাকা। সাত্ত্বিক-চিরাগ যারা ব্যাডমিন্টনে প্রথম নক-আউটে হারলেন, তাদের জন্য ৫.৬২ কোটি টাকা। নক-আউটে প্রথমেই হেরে যাওয়া পিভি সিন্ধুর জন্য ৩.১৩ কোটি টাকা। চতুর্থ হওয়া মীরাবাই চানুর জন্য ২.৭৪ কোটি টাকা। শুটিংয়ে জোড়া পদক জেতা মানু ভাকেরের জন্য ১.৬৮ কোটি টাকা। টেনিসে হেরে যাওয়া রোহন বোপান্নার জন্য ১.৫৬ কোটি টাকা। তীরন্দাজিতে অঙ্কিতা ভাক্তের সঙ্গে চতুর্থ হওয়া ধীরজ বোম্মাধেরাভার জন্য ১.০৭ কোটি টাকা। বক্সিংয়ে নিখাত জ়ারিন ও লভলিনা বরগোহাঁইয়ের জন্য যথাক্রমে ৯১.৭৯ লক্ষ ও ৮১.৭৬ লক্ষ টাকা। প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া পুরুষ বক্সার অমিত পঙ্ঘালের জন্য ৬৫.৯০ লক্ষ টাকা।

২০২১-এ টোকিওর পর থেকে তিন বছরের অলিম্পিক প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি লগ্নি করা হয়েছে অ্যাথলেটিক্সে। মোট ৯৬.০৮ কোটি টাকা। ব্যাডমিন্টনে খরচ করা হয়েছে মোট ৭২.০৩ কোটি টাকা। বক্সিংয়ে মোট ৬০.৯৩ কোটি টাকা। তীরন্দাজিতে মোট ৩৯.১৮ কোটি টাকা। অথচ একমাত্র নীরাজ পদক জিতেছেন। ভারোত্তোলনে খরচ হয়েছে মোট ২৭ কোটি টাকা। সাঁতারে মোট ৩.৯০ কোটি টাকা। প্যারিসে ৩৫টি ফাইনাল হয়েছে সাঁতারের ইভেন্টে। ভারত যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র দুটিতে। একটিতেও পদক আসেনি। তুলনায় হকিতে ৪১ কোটি টাকা খরচ করে ব্রোঞ্জ পাওয়া গিয়েছে। সেই কথাটাই বলতে চাইলেন বিন্দ্রা। শুধু টাকা খরচ করলেই পদক আসবে না বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত