ঋণখেলাপির দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানকে আইএফআইসি ব্যাংকে তার পরিচালক পদে পুনর্নিয়োগের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে তিনি ব্যাংকটির পরিচালক পদ থেকে বাদ পড়েছেন। আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের আবেদন নাকচ করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত রবিবার আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসেস ফ্যাশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও পরিচালক আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান। কোম্পানিটি জনতা ব্যাংকের গ্রাহক, যা খেলাপি হয়ে পড়েছে। তারা দুজন বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান। তবে ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ইতিমধ্যে সায়ান ফজলুর রহমানের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুন ব্যাংকের ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানকে পরিচালক হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। যদিও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসেস ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে থাকা ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাকে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে পুনর্নিযুক্তির প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। এরপরও তাকে পরিচালক হিসেবে অনুমোদন চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করে ব্যাংকটি। তবে ব্যাংকটির এ আবেদন নাকচ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালক নিযুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হালনাগাদ ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে আবেদন প্রেরণের জন্য পরামর্শ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকটি জেনেশুনে খেলাপি ঋণ থাকার পরও সায়ান ফজলুর রহমানকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আবেদন করেছে। এ কারণে সালমান এফ রহমানও আইএফআইসি ব্যাংক থেকে বাদ পড়তে পারেন। তবে ইতিমধ্যে যদি ঋণটি নিয়মিত হয়ে থাকে, তাহলে তার পরিচালক পদে থাকতে কোনো সমস্যা নেই।
সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এক সপ্তাহ ধরে তাকে কোথাও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে গতকাল আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
