নরসিংদীতে রায়পুরায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে দেশ রূপান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান মনির (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের শ্রীরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মনিরুজ্জামান মনির রায়পুরা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি। তিনি উপজেলার মেথিকান্দা গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। এলাকার লেয়াকত আলী ওরফে লইক্কা মিস্ত্রি ও হযরত আলী ওরফে হরজু সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকার লেয়াকত আলী সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনিরের দাদা হন। এর আগে বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে গতকাল দুপুরে শ্রীরামপুর বাজার থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা পরিষদে ফিরছিলেন মনিরুজ্জামান। এ সময় বাজারের পাশেই আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করে। মনিরুজ্জামান আত্মরক্ষায় একটি দোকানে ঢুকে গেলে সেখান থেকে তাকে বের করে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও পায়ে-হাতে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার সময় রায়পুরা থানা-পুলিশের কোনো তৎপরতা না থাকায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর দল হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিক মনিরের খোঁজখবর নেয় ও রায়পুরা শহরে নিরাপত্তা জোরদার করে।
আহত সাংবাদিক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘শ্রীরামপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাই। সেখান থেকে উপজেলা পরিষদে ফেরার পথে শহীদ মিয়ার চালের দোকানের সামনে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর গুলি করে, হ্যামার দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরা উপজেলাবাসীর ক্ষতি করে যাচ্ছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এজন্য তারা আমার ওপর হামলা করেছে।’
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) রঞ্জন কুমার বর্মন বলেন, ‘সাংবাদিকের হাতে এবং পায়ে গুলি লেগেছে। মাথায়ও গুরুতর আঘাত আছে। অবস্থা আমাদের অনুকূলে না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি।’
এ ঘটনায় নরসিংদী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, রায়পুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, রায়পুরা সাংবাদিক ফোরাম, রায়পুরা প্রেস ক্লাবসহ নরসিংদী জেলা ও উপজেলার সাংবাদিক সংগঠনসহ নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
