রাজপথ ছাড়েনি চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪, ০৭:০৮ পিএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে প্রতি বিপ্লবের গুঞ্জন উঠে চারদিকে। তাই প্রতি বিপ্লব রুখে দিতে রাজপথে ছাড়েননি দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা। ব্যতিক্রম নয় চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরাও। প্রতি বিপ্লব রুখে দিতে তীব্র রোদের মধ্যে চট্টগ্রামের রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে অবস্থান নেন চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। টানা চার ঘণ্টা চলমান এই অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয় দুপুর একটায়। 

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সপ্তাহব্যাপী ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ এর অংশ হিসেবে রাজপথে নামেন তারা।

সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নিউ মার্কেট মোড়ে জমায়েত হতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চট্টগ্রামের রাজপথ। শেখ হাসিনার বিচারসহ চার দফা দাবিতে শুক্রবার থেকে এই কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা- ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনী হাসিনার ফাঁসি চাই, স্বৈরাচারীর দালালি চলবে চলবে না, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, জেগেছে রে জেগেছে ছাত্র সমাজ জেগেছে, লেগেছে রে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে, 'দিয়েছি তো রক্ত আরও দেবো রক্ত' ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, শত শত ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও স্বৈরাচারের দোসরা এখনও ওত পেতে আছে। সকল ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ছাত্রসমাজ প্রস্তুত আছে। আমার ভাইদের রক্ত বৃথা যাবে না। আমাদের এই বিপ্লব চলছে চলবে। ছাত্র জনতার বিপ্লব যাতে বেহাত না হয় সেজন্য সকলকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিগুলো হলো -

১. ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট  হাসিনা এবং তার দল ও সরকার‍ যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

২.  সংখ্যালঘুদের উপর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী মহাজোটের শরিক দলগুলোর পরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতি ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। 

৩. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হামলা, মামলা, এবং হত্যাযজ্ঞকে বৈধতা দিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বারংবার কায়েমের চেষ্টা করছে, তাদের দ্রুততম সময়ে অপসারণ ও নতুন সরকারে তাদের নিয়োগ বাতিল করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। 

৪. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা এতদিন বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য দ্রুততম সময়ে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত