পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করলে অস্তিত্ব থাকবে না : সারজিস

ফোন চেক না করার আহ্বান সমন্বয়কদের

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৪২ এএম

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে তাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সারজিস এমন হুঁশিয়ারি দেন। ‘১৫ আগস্ট ঘিরে পাল্টা অভ্যুত্থানের’ সম্ভাবনা ঠেকাতে ডাকা ‘রেজিস্ট্যান্স উইকের’ অংশ হিসেবে ‘সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচিতে’ এ কথা বলেন সারজিস। এর আগে গতকাল পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টা থেকে শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘প্রতিবিপ্লব’ ঠেকাতে বিভিন্ন সেøাগান দেন। তাছাড়া মহানগর নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় গান, কবিতা ও নাটক মঞ্চায়ন করা হয়। এ সময় ছাত্র-জনতা- ‘হই হই রই রই, হাসিনা/সন্ত্রাসীরা গেলি কই?’; ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’; ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’; ‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই, হাসিনার ফাঁসি চাই’; ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’; ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’; ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ইত্যাদি সেøাগান দেন।

সারজিস বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আমার রাস্তায় নামার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু কুচক্রী মহল ফ্যাসিবাদের দোসররা তাদের কুচক্র এখনো শেষ করেনি। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে তারা বিভিন্ন অপচেষ্টা করার চেষ্টা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আবার রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে। আমরা চাই না, আমাদের রাস্তায় নামার কারণে আমাদের একজন ভাইবোনেরও সমস্যা হোক। কিন্তু দেশ যখন সংকটে পড়ে যায়, তখন কষ্ট হলেও আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। কারণ, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।’

‘১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ থেকে শুরু করে স্বৈরাচারের দোসররা একটা পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করছে বিভিন্ন মহল থেকে এমন খবর পাচ্ছেন উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা করলে তাদের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না, যে অস্তিত্ব নিয়ে ১০০ বছর পরে হলেও তারা বাংলাদেশে এসে দাঁড়াতে পারবে। তাদের সাবধান করে দিতে চাই, এই দেশ নিয়ে আর কোনো ছেলেখেলা করবেন না। ছাত্র-জনতা মিলে এ দেশকে যেদিকে যাওয়া প্রয়োজন, সেদিকে নিয়ে যাবে। এর জন্য যা করা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব।’

সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচিতে আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকেও ভারতীয় মিডিয়া সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রকাশ করছে। গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা মোদির মাধ্যমে নির্বাচন করতে চায়।’ দেশকে বিতর্কিত করার জন্যই এগুলো করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ৪ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানান হাসনাত আবদুল্লাহ।

মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমন্বয়ক এইচ এম মঈন বলেন, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে ষড়যন্ত্র মঞ্চস্থ করার পাঁয়তারা করছে। তাছাড়া তাদের সন্ত্রাসী সন্তানদের দেশে লেলিয়ে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে বিনীত আবেদন করছি, শেখ হাসিনাকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনুন।’

মানুষের ফোন চেক না করার আহ্বান সমন্বয়কদের : মানুষের ফোন চেক করে হেনস্তা না করা এবং সাংবাদিকদের কাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং রিফাত রশিদ ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কারও ফোন চেক করা, নিরস্ত্র-নিরপরাধ ব্যক্তির ওপর চড়াও হওয়া নিন্দনীয়। একইভাবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মিডিয়ায় বাজেভাবে উপস্থাপন মানবাধিকার লঙ্ঘন। অপরাধীদের আইনের প্রক্রিয়া অনুসারে বিচার করতে হবে। আমাদের অভ্যুত্থান ন্যায় ও নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ, জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল। আমাদের যেমন প্রতিরোধ জারি রাখতে হবে অন্যদিকে নিজেদের অভ্যুত্থানের স্পিরিট বজায় রাখতে হবে।’

রিফাত রশিদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আজকের সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ফোন চেক করে হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্ট করে বলতে চায়, মানুষের প্রাইভেসি বিনষ্ট হয় এমন কোনোকিছুই আমরা সমর্থন করি না। এমন কাজ পুরনো বৈষম্যের দৃষ্টান্তকেই আবার নতুনভাবে ডেকে আনছে। তাই ফোন চেকসহ নাগরিকের ব্যক্তিজীবনের স্বাভাবিক যাত্রা বিনষ্ট হয় এমন কিছুই করবেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত