গাজায় গত বছর ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হাজার ৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতের এ পরিসংখ্যান দিয়েছে। এই সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজার জনসংখ্যা ছিল ২৩ লাখ।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াও স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবিতে আরও দেখা যায়, গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা নগরী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত নিহতের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক মানুষের পাশাপাশি যোদ্ধারাও। তবে নিহতদের মধ্যে যাদের শনাক্ত করা গেছে, তাদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চলতি মাসে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বিবিসিকে বলেছে, যুদ্ধ চলাকালে ১৫ হাজারের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তবে ইসরায়েল গাজায় বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে রাখায় অপরপক্ষ থেকে যোদ্ধা নিহতের এ সংখ্যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বুধবারও গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩২ জন। এরমধ্যে কাতারে শুরু হয়েছে যুদ্ধবিরতির নতুন আলোচনা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নেয়া কাতারের রাজধানী দোহায় গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন এক দফা আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১০ মাসের গাজা সংঘাতের অবসান এবং ১১৫ জন ইসরায়েলি ও বিদেশি জিম্মিকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ইরান হুমকি দিয়েছে, হিজবুল্লাহ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার প্রতিশোধ নেবে। এমন পরিস্থিতিতে এই আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং যুদ্ধবিমান ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটন আশা করছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো যাবে।
হামাস এই আলোচনায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। তবে বৈঠক শেষে হামাসের দোহা-ভিত্তিক আলোচনাকারী দলের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা করবেন বলে একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তারা হামলা চালানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি থেকে পেছানোর বা কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি ইরান এ থেকে পিছিয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন বলেও সতর্কতা দিয়েছেন তিনি।
গত মাসে ইরানের রাজধানী তেহরানে গুপ্তহত্যার শিকার হন হামাসের প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়া। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে দখলদার ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইরান। খামেনির দাবি, শত্রুরা স্নায়ুযুদ্ধের মাধ্যমে ইরানকে চাপ দিচ্ছে যেন তারা ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে। ৮৬ বছর বয়সী এ নেতা বলেছেন, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর সামরিক, রাজনৈতিক অথবা অর্থনৈতিক যে কোনো হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যায় তাহলে আল্লাহ কঠোর শাস্তি দেবেন। ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের ওপর কোনো হামলা চালায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ইরানের একটি কৌশলগত অবস্থান।
ইসরায়েলে হামলা না চালাতে ইরানের ওপর চাপ দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা এ পরিকল্পনা থেকে পিছপা হবে না। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো পশ্চিমা দেশগুলোকে ভণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব দেশ গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতার ব্যাপারে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। অপরদিকে ইরানকে ইসরায়েলে হামলা না চালাতে চাপ দিচ্ছে।
