মাঠে ফুটবল রাখতে নানা পরিকল্পনা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৫:২৯ এএম

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতন ঘটেছে শেখ হাসিনা সরকারের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ফুটবল ক্লাবগুলোর ওপর। দীর্ঘ ১৫ বছর ফুটবল ক্লাবগুলোর ক্ষমতায় ছিলেন আওয়ামীপন্থি ক্রীড়া সংগঠকরা। পালাবদলে অনেক ক্লাবই এখন নেতৃত্বশূন্য, অনিশ্চয়তার দোলায় দুলছে। অর্থের উৎসগুলো অনেকের বন্ধ হয়ে গেছে। দল গঠন, পরিচালনার বিশাল ব্যয় কী করে চলবে, সেটা ভেবেই দিশেহারা অনেক ক্লাব কর্তা। এ অবস্থায় ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম শুরু নিয়ে ভাবনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে বাফুফের পেশাদার ফুটবল লিগ কমিটি নানা পরিকল্পনায় যে করেই হোক শুরু করতে চায় ঘরোয়া মৌসুম।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে চলমান দলবদলের সময় কিছুদিন বাড়ানোর জন্য ফিফায় চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। তবে ফিফা জবাবে না বলে দিয়েছে। তাই পূর্ব নির্ধারিত ১৯ আগস্ট শেষ হচ্ছে দলবদলের সময়। প্রিমিয়ার লিগের ১০টি ক্লাবকে এই সময়ের মধ্যেই দল গোছানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। ৫ আগস্টের আগে-পরে আবাহনী লিমিটেড, শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব, ফর্টিজ ফুটবল ক্লাব, নবাগত ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবসহ বেশ কটি ক্লাবে ঘটেছে দুষ্কৃতকারীদের হামলার ঘটনা। যার ফলে এই ক্লাবগুলোর দল গঠনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আবাহনীর মতো বড় ক্লাব হয়তো এই সমস্যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে, তবে অন্য ক্লাবগুলোর জন্য এত অল্প সময়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা ভীষণ কঠিন।

বেশ কয়েকটি ক্লাবের আগামী মৌসুমে না খেলার গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। এই ক্লাবগুলোও যাতে মাঠে থাকে, সেটা নিশ্চিতেও বাফুফে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান সহ-সভাপতি ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের কাছে ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন এই কর্মকর্তা, ‘দেশের সামগ্রিক অবস্থায় সবগুলো ক্লাবই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কেউই এখনো প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি। অনেক ক্লাব এমনকি খেলোয়াড়ও পুরোপুরি সংগ্রহ করতে পারেনি। তাই ফিফাকে চিঠি দিয়ে দলবদলের সময়টা একটু বাড়াতে বলেছিলাম। ফিফা অবশ্য সেই অনুরোধটুকু নাকচ করে দিয়েছে। ফলে ১৯ আগস্ট দলবদল শেষ হচ্ছে। যেহেতু ক্লাবগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, তাই দলবদল শেষ হলেও আমরা চাই মৌসুমটা একটু সময় নিয়ে শুরু করতে।’

বেকায়দায় থাকা ক্লাবগুলোর কোনোটিই অবশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইমরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ খেলবে না জানিয়ে চিঠি দেয়নি। লোকমুখে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে। সব ক্লাবের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে বুঝেছি হয়তো দুই-একটি ক্লাব এ অবস্থা থেকে একটু ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা করছে না খেলার ব্যাপারে। আমরা নিয়মিত সেই ক্লাবগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত তারাও খেলবে।’

আসছে মৌসুমে নিয়মিত হওয়া লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ ছাড়াও সুপার কাপ ও নতুন সংযোজন চ্যালেঞ্জ কাপ আয়োজনের ইচ্ছে ছিল পেশাদার লিগ কমিটির। লিগজয়ী ও ফেডারেশন কাপ জয়ীর মধ্যে একটি ম্যাচ দিয়ে হতো চ্যালেঞ্জ কাপ। গেল মৌসুমে যেহেতু দুই আসরেই চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস, সেহেতু ফেডারেশন কাপের রানার্স-আপ মোহামেডানের খেলার কথা সেই ম্যাচে। ইমরুল হাসান চান চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করতে, ‘সাধারণত লিগসহ মোট তিনটি আসর আমরা করে থাকি (লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ)। এ বছর সুপার কাপ ও চ্যালেঞ্জ কাপও করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে দলগুলোর জন্য এতগুলো টুর্নামেন্ট খেলা সম্ভব কি না এ নিয়ে আমরা সন্দিহান। তবে লিগ ও ফেডারেশন কাপ যেহেতু এএফসির সঙ্গে সম্পর্কিত, দুটি আসর হবেই। আর চ্যালেঞ্জ কাপ যেহেতু এক ম্যাচের, এটি করার চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি যদি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, সময় পাওয়া যায় তবে শেষ দিকে স্বাধীনতা কাপও করব। আমরা চাই আগামী বছরও একই সময়ে দলবদল আয়োজন করতে। স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপ করতে গিয়ে যেন সেটায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।’

এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে আশা করে ইমরুল হাসান বলেন, ‘ক্লাবগুলো বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠনের অনুদানে চলে। এ মুহূর্তে কিছু ক্লাব বেকায়দা অবস্থায় থাকলেও, অনেক পরিচ্ছন্ন ক্রীড়া সংগঠক ক্লাবগুলোর হাল ধরতে আগ্রহী। সাময়িক অসুবিধা হলেও আমার বিশ্বাস ক্লাবগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

গেল পনেরো বছরে করোনা অতিমারীর কারণে ভেস্তে গিয়েছিল একটি মৌসুম। এর বাইরে প্রতিটি মৌসুমই দেখেছে সফল সমাপ্তি। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবার ঘরোয়া মৌসুম ঠিকঠাক শুরু নিয়েই রয়েছে সংশয়। তবে যে করেই হোক, বাফুফে ফুটবলকে রাখতে চায় মাঠে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত