রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত সেতুর পাশে সারি সারিভাবে বেঁধে রাখা আছে অর্ধশতাধিক ট্যুরিস্ট বোট। বেড়াতে আসা পর্যটকরা কাপ্তাই হ্রদে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন ও ঘুরে বেড়ানোর জন্য এই ট্যুরিস্ট বোটগুলো ভাড়া করে থাকেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে নেই কোনো পর্যটক। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেকার জীবন পার করছেন পাঁচ শতাধিক ট্যুরিস্ট বোটচালকের জীবন। তাছাড়া এই খাতে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট হোটেল, রেস্টুরেন্ট, টেক্সটাইল মার্কেটসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল থাকা কয়েক হাজার মানুষ।
গত সোমবার সকালে ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকবিহীন খাঁ খাঁ করছে সেতুটি। একেবারেই সুনশান নীরবতা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। অথচ বর্ষার এই সময়ে প্রাকৃতিক ঝর্ণার কলকাকলির মতো সবসময় মুখর থাকত পর্যটন এলাকা। নেই কোনো পর্যটকের কোলাহল। শূন্য ঝুলন্ত সেতুই যেন প্রতীক বর্তমান বাংলাদেশের সার্বিক চিত্রের। ঝুলন্ত সেতুর পাশে ঘাটে বাঁধা ট্যুরিস্ট বোটগুলো। হ্রদে চড়ে বেড়ার বদলে ঘাটেই দিন কাটছে ইঞ্জিনচালিত এসব নৌকার। একই অবস্থা পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট, সুবলং ঝর্ণাসহ জেলার অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর।
রাঙ্গামাটি পর্যটন নৌযান ঘাটের ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটিতে পর্যটক নেই বললেই চলে। ট্যুরিস্ট বোট চালকরা খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকে বোট রেখে অন্যান্য দিনভিত্তিক কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। রাঙ্গামাটির পর্যটন খাত খুব খারাপ একটি সময় পার করছে।’
হোটেল স্কয়ার পার্কের স্বপন শীল বলেন, ‘আমাদের হোটেলে এই মুহূর্তে কোনো গেস্ট নেই। পুরো হোটেল ফাঁকা। দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাঙ্গামাটিতে পর্যটক আসছে না। এই বর্ষা মৌসুমে আমাদের খুব ক্ষতি হয়ে গেল।’
রাঙ্গামাটি হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন সেলিম জানান, গত এক মাস ধরে হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা বেকার দিন কাটাচ্ছেন। প্রত্যেকটা হোটেলে কমবেশি ৮-১০ জন করে স্টাফ আছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটি শহরে ৫৩টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। গত এক মাসে এই খাতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।
রাঙ্গামাটির স্থানীয় হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা চলে পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে। পর্যটক না থাকায় সেসব ব্যবসায়ও ভাটা পড়েছে। পর্যটক খরায় ভুগছে টেক্সটাইল মার্কেটের দোকানগুলো।
পর্যটন করপোরেশন রাঙ্গামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ‘গত এক মাস ধরে পর্যটক নেই বললেই চলে। প্রতিদিনই লোকসান গুনছি। মাস শেষে বুঝতে, কত লোকসান হবে। পর্যটনের হোটেলে পর্যটক নেই, ঝুলন্ত সেতুতেও নেই পর্যটক। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে পর্যটকরা আবারও আসতে শুরু করবেন।’
