পর্যটকশূন্য পর্যটনকেন্দ্র লোকসানে ব্যবসায়ীরা

শ্রীমঙ্গলে বাতিল হচ্ছে অগ্রিম বুকিং

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৪১ এএম

চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এখন পর্যটকশূন্য। সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এখানকার পর্যটনশিল্পে। গত দেড় মাস ধরে চা বাগানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে কোনো পর্যটক নেই। অগ্রিম বুকিং বাতিল হওয়ায় লোকসানে রয়েছেন এখানকার রিসোর্ট ও হোটেল মালিকরা। 

পর্যটন-ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলেছেন, এমন পরিস্থিতির জন্য ব্যবসায়ী বা পর্যটক কেউ প্রস্তুত ছিল না। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন খাত ব্যবসায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। পর্যটকরা সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখন আর ঘুরতে আসছেন না। তা ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থাও পুরোপুরি সচল নয়। এসব কারণে বধ্যভূমি একাত্তর, বাইক্কাবিল, বিটিআরআই প্রভৃতি পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি লোকশূন্য। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার হোটেল-মোটেলের মালিকরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে অলস সময় পার করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ রিসোর্ট রাধানগর এলাকায়। স্থানটি শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। এ কারণে রাধানগর এলাকায় বেশ কিছু রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন দোকানপাট গড়ে উঠেছে। এখানকার একটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট চামুং। রেস্টুরেন্টটির ব্যবস্থাপক শংকর ছত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাধারণত প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসু কয়েক হাজার মানুষ এখানে আসতেন। ঈদ মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও দেশের অস্থিরতার কারণে এখানে পর্যটক আসা তো দূরের কথা, স্থানীয়রাও আসছেন না। কিন্তু স্টাফদের বেতন-ভাতাসহ নানা খরচ থেমে নেই। পর্যটক না আসায় আমাদের অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অনেক অগ্রিম বুকিং ছিল, কিন্তু দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে সব বুকিং বাতিল করে দেন পর্যটকরা। বিদেশি পর্যটকরা সাধারণত ছয় থেকে এক বছর আগে ট্যুর প্ল্যান করে থাকেন। পাশাপাশি তারা বুকিংও দিয়ে রাখেন। কিন্তু দেশের চলমান পরিস্থিতির ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। এতে করে ট্যুর গাইডরা কিছুটা বিপাকে পড়ে গেছেন।’

বালিশিরা রিসোর্ট ও নোভেম ইকো রিসোর্টের পরিচালক পারভেজ কামাল পাশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, এখন কিছুটা পর্যটক বাড়বে। কিন্তু তেমন বুকিং হয়নি। তা ছাড়া ১৫ আগস্টের ছুটিকে কেন্দ্র করে আমাদের কিছু বুকিং হয়েছিল। কিন্তু এই ছুটি বাতিল হওয়ার পর অনেকে বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন। তারপরও আশা করি, কিছুদিন পর আবার সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত