ক্রীড়া সংগঠক ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিন ফুটবল থেকে নিজেকে আরও সরিয়ে নিলেন। রবিবার তিনি চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যহতি নিয়েছেন। বিষয়টি নিজেই দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রুহুল আমিন।
সম্প্রতি তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তাকে ২০২০ সালের বাফুফে নির্বাচনে অংশ নিতে দেননি। ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। রুহুল আমিনের অভিযোগ, সালাউদ্দিন হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ বেশ ক’জন প্রভাবশালী ও বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে তাকে নির্বাচন থেকে জোড়পূর্ব সরে যেতে বাধ্য করেন এবং তার ব্যাবসা ধ্বংসের চক্রান্তে মেতে ওঠেন।
সভাপতি পদে নির্বাচন করতে না পেরে রুহুল আমিন ফুটবল থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার লিগে নাম লিখানো সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে ২০২১-২০২২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় হওয়ার পরপরই শীর্ষস্তর থেকে সরিয়ে নেন। সম্প্রতি নিচের স্তর থেকেও দলকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এবার চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে সরে দাঁড়িয়ে বলতে গেলে পুরোপুরি ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন রুহুল আমিন।
রবিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি তিন বছর আগেই সরে যেতে চেয়েছিলাম। ক্লাবের অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রতিবারই বলেন ফুটবল দল চালাতে টাকা দিবেন। কিন্তু কখনই তারা দেন না। আমাকেই গেলো ছয়-সাত বছর ধরে সব টাকা দিতে হচ্ছে। আমি বিরক্ত। তাই আজ অব্যাহতি নিয়েছি। আর আমি টাকা দিবো না।’
আগামী অক্টোবরে হবে বাফুফের নির্বাচন। ফুটবলঙ্গনে গুঞ্জন আছে, রুহুল আমিনও এই নির্বাচনে অংশ নিবেন। দেশ রূপান্তরকে অবশ্য বলেছিলেন তিনি নির্বাচন করা নিয়ে ভাবছেন। তবে চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনকে এবার ফাঁকা মাঠে খেলতে দিবেন না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় ফুটবল থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়াটা সাংঘার্ষিক সিদ্ধান্ত হয়ে যাচ্ছে।
