প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনে দায়মুক্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টে এ আবেদনটি করেন।
রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২-এর ৯ ধারা চ্যালেঞ্জ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ ধারায় প্রদত্ত দায়মুক্তি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলের আরজি জানানো হয়েছে।
আবেদনে আইন সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে। কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান রিটকারীদের আইনজীবী।
রিটকারী আইনজীবীরা হলেন আব্দুল্লাহ সাদিক, জিএম মোজাহিদুর রহমান, মিসবাহ উদ্দিন, জোবায়দুর রহমান, নোয়াব আলী, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, সাজ্জাদ সরওয়ার, মোজাহিদুল ইসলাম, মিজানুল হক ও একেএম নুরুন নবী।
সংশ্লিষ্ট আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির আগে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং ওই অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলে গণ্য হবে এবং ওই বিষয়ে কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
রিট আবেদনের যুক্তি তুলে ধরে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, আইনের ৯ ধারার মাধ্যমে আগে নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, যা সংবিধানের ২৬, ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদসহ ক্ষমতার পৃথককরণ নীতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
