কিয়েভের সঙ্গে মস্কোর আলোচনা!

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ১২:৫৮ এএম

রাশিয়ায় ঢুকে হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন। রুশ শহর কুরস্কের দখল নেওয়ার দাবিও করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা। গত রবিবারও কুরস্কে চলমান অভিযানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি সেতু ধসিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। এমন প্রেক্ষাপটে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিজেদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করার পরিকল্পনা করছিল। এ জন্য চলতি মাসে উভয় দেশ কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা ছিল। চুক্তিটি উভয় দেশকে আংশিক যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু রাশিয়ার ভূখণ্ডে (কুরস্ক অঞ্চলে) ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার কারণে তা (কাতারে আলোচনার সেই পরিকল্পনা) বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কেউ কোনো কিছু ফাঁস করেনি। কারণ, ফাঁস করার মতো কিছু ছিলই না। বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়া ও কিয়েভ সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা অপ্রত্যক্ষ কোনো আলোচনা হচ্ছে না। কাতারে আলোচনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইউক্রেন। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে দোহা (কাতার) শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করার কথা জানিয়েছিল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর। এখন তা ভিডিও সম্মেলন আকারে ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। চলমান যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ করে আসছে। অবশ্য উভয়েই তা অস্বীকার করেছে।

কাতারে মস্কো-কিয়েভের আলোচনার বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের দাবি প্রসঙ্গে মারিয়া জাখারোভা রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন। ১২ আগস্ট সাংবাদিকরা পুতিনকে প্রশ্ন করেছিলেন, রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের স্থল অভিযানের পর কিয়েভের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হতে পারে? তখন পুতিন (কুরস্ক অঞ্চলে) রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে উল্লেখ করে উত্তর দিয়েছিলেন।

পুতিন তখন বলেছিলেন, যারা এসব জিনিস করতে পারে, সেসব মানুষের সঙ্গে আলোচনার কিছু নেই। পুতিনের এ কথাই উদ্ধৃত করেন জাখারোভা।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এরপর তারা ইউক্রেনের প্রায় ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৬ আগস্ট রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে ইউক্রেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ার ভূখণ্ডে বাইরে থেকে এটাই প্রথম সামরিক অভিযান। এই অভিযানে কৌশলগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ওই সেতুতে আঘাত হানার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে আর তাতে সেতুটি কুরস্কের জোয়ান্নে এলাকায় সেইম নদীর ওপর বলে দাবি করা হয়েছে। জানিয়েছে বিবিসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত