অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন পেশাজীবীদের যারা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দাবিদাওয়া আদায়ে আন্দোলন করছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাবি পূরণ হচ্ছে প্রশাসনের কর্মকর্তা বা আমলাদের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
গত এক সপ্তাহে যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে অন্তত ৩৪০ কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যে তারিখ থেকে এ কর্মকর্তাদের কনিষ্ঠ কর্মকর্তারা তাদের ছাড়িয়ে যান, সেই তারিখ থেকে তাদের পদোন্নতি কার্যকর হবে এবং তারা বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত পাঁচজন অতিরিক্ত সচিবকে দুই বছরের জন্য সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিগগির আরও প্রায় ১০০ জনকে অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ারও কথা শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে এ সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন পুলিশের ১০৩ কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার পদোন্নতির এ সুযোগে অনেক অযোগ্যও সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন। এমনকি কারও কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকারও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পদ না থাকার পরও পদোন্নতি দেওয়ার ফলে মাথাভারী হচ্ছে প্রশাসন। আবার পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংখ্যা বেশি। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্যেষ্ঠতা ও মেধা অনুযায়ী অবশ্যই পদোন্নতি দেওয়া জরুরি। কিন্তু গত দেড় দশকে পুলিশ, জনপ্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার ফলে বৈষম্যের পাহাড় তৈরি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির পাশাপাশি পুলিশ ও জনপ্রশাসনে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এমন অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে পরিবর্তন কিংবা সংস্কার করা হলে এ নিয়ে সংকট তৈরি হবে কি না, সেটি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান সময়ে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত বঞ্চিতরাই যাতে সুবিধা পান, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ারও দাবি উঠেছে।
অন্তর্র্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দায়িত্বে থেকে এখন যারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না, সেসব জাতীয় জায়গায় দ্রুত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে যাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, তাদের প্রতি সুবিচারের ব্যবস্থা করছি আমরা। এ ছাড়া বিশেষ বিবেচনায় অনেক জায়গায় চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ পেয়েছিল অনেকে। আমরা সেগুলো বাছাই করে যাদের প্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে না, তাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দিচ্ছি।’
অবসরে যাওয়া ৫ কর্মকর্তাকে দুটি পদোন্নতি : গত ১৭ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরদিন আবার পদোন্নতি দিয়ে তাদের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়। যেটিকে অনেকই নজিরবিহীন বলছেন। যদিও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের চুক্তিভিত্তিক অনেক নিয়োগ বাতিল করেছে। নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ারও একটা সিদ্ধান্ত ছিল শুরুর দিকে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাচে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া শেখ আবদুর রশিদও রয়েছেন। তাদের পাঁচজনেরই ২০০৯-১০ সালের মধ্যে সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি পাননি, উল্টো শিকার হয়েছেন বঞ্চনার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের সচিব পদে পদোন্নতি না দিয়ে দীর্ঘদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়। তাদের কাউকে আবার বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠানো হয়েছিল।
ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর তিন দিন পর নোবেলবিজয়ী অর্থনীবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্র্বর্তী সরকার। এ সরকারের উপদেষ্টারা ১১ আগস্ট প্রথম কার্যদিবসে নিজ নিজ দপ্তরে গেলে বিগত সরকারের সময় ‘বঞ্চিত’ অনেক কর্মকর্তা তাদের অভাব-অভিযোগের কথা উপদেষ্টাদের কাছে তুলে ধরেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ১৩ অগাস্ট প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী সচিব মর্যাদার ১১৭ জন কর্মকর্তাকে একযোগে পদোন্নতি দিয়ে উপসচিব করা হয়। ১৮ আগস্ট উপসচিব ও সমপর্যায়ের পদে থাকা ২০১ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। সর্বশেষ গতকাল আরও ২২ জন কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
বঞ্চিতদের তালিকায় ঢুকে পড়ছেন অযোগ্য ও সুবিধাবাদীরা : দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া শুরুর পর সুযোগবুঝে কিছু অযোগ্য এবং আওয়ামী লীগের দলবাজ লোকজনও পদোন্নতি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই সুর পাল্টে আগের সরকারের মতোই এ সময়ে কর্তৃত্ব দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা তাদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
সদ্য যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান, যিনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বছর আমার অতিরিক্ত সচিব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের সরকারের লেজুড়বৃত্তিক না করার অপরাধে আমি বঞ্চনার শিকার। পদোন্নতি না হওয়ায় গত চার বছর ইনক্রিমেন্টও বন্ধ ছিল। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, ব্যক্তিগত জীবনে চরম হতাশা কাজ করত। কয়েকবার চাকরি ছাড়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। নতুন করে আর যেন কেউ বঞ্চিত না হন এবং অযোগ্য আর যোগ্যদের এক পাল্লায় মাপা না হয়।’
২৩ বছরের চেয়েও কম বয়সে বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান সরওয়ার আলম। টানা ৩৬ বছরেরও বেশি সময় চাকরি করেও যুগ্ম সচিব পদে থেকে অবসরে যেতে হয়েছে তাকে। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস তার ব্যাচমেট ছিলেন।
সরওয়ার আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, চাকরিতে তার পেছনে থাকা অন্তত ১০ জন সিনিয়র সচিব হয়েছেন। অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে যুগ্ম সচিব পদ থেকেই অবসরে যেতে হয়েছে। এটা চরম অপমানজনক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা (ছাত্ররা) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিজয় এনেছে, তার সঙ্গে শুরু থেকেই আমরা ছিলাম। কারণ অন্য অনেকের মতো আমিও বঞ্চনার শিকার। মেধাভিত্তিক একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের যে স্বপ্ন ও চেতনা, সেটা বাস্তবায়ন হোক সেই কামনা করি। নিয়োগ, পদোন্নতি, ক্যাডারভিত্তিক বিভিন্ন বৈষম্যসহ যেসব বৈষম্য রয়েছে, সব বৈষম্য দূর হোক। সবকিছু মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া দরকার। এ সুযোগে অযোগ্যরা ঢুকে পড়লে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করবে।’
পদ নেই, তবুও পদোন্নতি : প্রশাসনে ৫০২টি যুগ্ম সচিব পদের বিপরীতে কর্মরত ছিলেন ৯৪৬ জন। নতুন করে আরও ২০১ জনকে পদোন্নতি দেওয়ায় যুগ্ম সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জনে। এ ছাড়া সরকারের অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ ২১২টি। যেখানে কর্মরত রয়েছেন ৪১৫ জন। নতুন করে আরও প্রায় ১০০ জন যুগ্ম সচিবকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হলে অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা হবে ৫১৫ জন।
ফলে নতুন পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আগের পদেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো কোনো কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। এদিকে গত ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১৫টি বিসিএসে বাদ পড়া ২৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
পদোন্নতি-ভালো স্থানে যেতে প্রতিযোগিতা পুলিশে : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে এখনো চলছে ব্যাপক অস্থিরতা। অজানা আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। একপক্ষ আরেকপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা অব্যাহত আছে। এরপরও পুলিশে কাজের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সবকটি ইউনিটিতে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। থানা ও ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা কাজে যোগ দিলেও একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা এখনো কাজে যোগ দেননি। এরই মধ্যে পুলিশে চলছে ব্যাপক পদোন্নতি ও পদায়ন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০৩ কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তাদের বঞ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বিসিএস ১২ ও ১৫ ব্যাচের বেশিরভাগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হলেও কেউ কেউ অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবেই আছেন। পট-পরিবর্তন হওয়ায় বঞ্চিতরা পদোন্নতি পাচ্ছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, কোনো অফিসার ১৬ বছর ধরে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও এখন ভোল পাল্টে ফেলেছেন। তারা নতুন আইজিপিসহ একটি গ্রুপের সঙ্গে মিশে আগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। আরও সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টায় আছেন। পদোন্নতির পাশাপাশি লোভনীয় পদ পেতেও নানা স্থানে তদবির চালাচ্ছেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান চৌকস কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেদের আসন নিচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিটিতে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রায় সবকটি থানার ওসি ও ডিসিদের। কয়েক দিনের মধ্যে ডিসি ও ওসি নিয়োগ হবে। তাছাড়া ডিএমপি ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, সবকটি রেঞ্জ ডিআইজি ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে যেতে প্রতিযোগিতা চলছে পুলিশে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের আগপর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে দমনের জন্য সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। নজিরবিহীন বলপ্রয়োগে শিক্ষার্থীসহ নিরীহ লোকজনের প্রাণহানির কারণে পুরো বাহিনীর ওপর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক মানসিকতার কারণে পুরো বাহিনী জনরোষে পড়েছে। পুলিশের মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক আছে এখনো। পালাবদল হওয়ায় পুলিশে কয়েকটি গ্রুপ ভাগ হয়ে গেছে। বঞ্চিতরা পদোন্নতি নিয়ে লোভনীয় পদে যেতে চাচ্ছে, আরেকপক্ষ চাচ্ছে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেরা পদ নিতে। অন্য আরেকপক্ষ চাচ্ছে পুরনো কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে। পুলিশের ইতিহাসে কখনো সিনিয়রদের অপমান করেনি জুনিয়ররা। পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন এক ধরনের বিব্রত অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। এমনকি পট-পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার চেহারাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ তারা বিগত সময়ে সব ধরনের সুবিধা ভোগ করেছেন।
পদোন্নতির পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়াও শুরু হয়েছে; রদবদলসহ নানা পরিবর্তন হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট এক দিনেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ ১১ জন সচিবের চুক্তি বাতিলসহ জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠিয়ে নতুন সচিব দেওয়া হয়েছিল। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, পুলিশ কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অনেকেই পদ ছেড়ে গেছেন। তাদের মধ্যে কেউ চাপের মুখে পদ ছেড়েছেন। কেউ পদ ছেড়েছেন স্বেচ্ছায়। বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদত্যাগ, রদবদল ও পরিবর্তনের ‘মিছিল’ গত কয়েক দিন ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। শীর্ষ স্তরের দায়িত্বে আসছে নতুন মুখ। অব্যাহতির পাশাপাশি দায়িত্বের বদলও চলছে।